হরমুজ নিয়ে ম্যাক্রোঁ-স্টারমারের উদ্যোগে প্যারিসে বিশেষ সম্মেলন
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। এই লক্ষ্যে শুক্রবার প্যারিসে কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তবে এই উদ্যোগে রাখা হয়নি যুক্তরাষ্ট্রকে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথটি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের সরাসরি পক্ষ না হয়েও এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি যে টালমাটাল পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতেই এই সম্মেলনের আয়োজন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই মিশনটি হবে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক এবং এতে কেবল যুদ্ধরত নয় এমন দেশগুলোই অংশ নেবে। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানকে ‘বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার’ দায়ে অভিযুক্ত করে বলেছেন, বিনাশর্তে এবং অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব।
সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য হলো স্ট্রেইট অব হরমুজ মেরিটাইম ফ্রিডম অব নেভিগেশন ইনিশিয়েটিভ গঠন করা। এর আওতায় সাগরে মাইন অপসারণ করা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। ফরাসি সামরিক মুখপাত্র কর্নেল গুইলাম ভারনেট জানিয়েছেন, এই মিশনটি এখনও গঠনের প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক সিদ্ধার্থ কৌশল মনে করেন, বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত যুদ্ধজাহাজ এই দেশ দুটির কারও নেই, তাই মাইন অপসারণ এবং সতর্কবার্তা দেওয়াই হবে এই জোটের প্রধান কাজ। ইরান বিশেষজ্ঞ এলি গেরানমায়েহ বলেন, মাইন অপসারণের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কারণ ইরানের উপকূলে মার্কিন সেনার উপস্থিতি নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
উল্লেখ্য, এবারের সম্মেলনে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সরাসরি অংশ নেবেন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোসহ প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এই জোট গঠনকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের একটি জবাব হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগে মিত্রদের ‘ভীরু’ বলে সমালোচনা করেছিলেন এবং যুক্তরাজ্যকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, আপনাদের তো নৌবাহিনীই নেই।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন