দুই ভাইকে বিয়ের ১৩ মাস পরে মা হলেন হিমাচলের সেই বধূ
একসঙ্গে দুই ভাইকে বিয়ে করে হইচই ফেলেছিলেন। এ বার কন্যাসন্তানের মা হলেন হিমাচলের গ্রামের সেই তরুণী সুনিতা চৌহান। হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলার দুই ভাই একই সঙ্গে সুনিতাকে বিয়ে করে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। সেই পরিবারেই এ বার জন্ম নিল নতুন সদস্য, যা তাঁদের পরিবারে আনন্দের ঢেউ বয়ে এনেছে।
দুই ভাই প্রদীপ নেগি এবং কপিল নেগি ইতিমধ্যেই বাবা হওয়ার খবর জানিয়েছেন সমাজমাধ্যমে। কপিল বর্তমানে বাহরিনে কর্মরত। আনন্দ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, সন্তানের আগমনে তাঁদের পরিবার পূর্ণতা পেয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘‘সিরমৌর ভাইদের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমাদের বাড়িতে একটি মিষ্টি ছোট্ট অতিথি এসেছে। বিদেশে থাকা সত্ত্বেও বাড়ি ফিরে সন্তানকে কোলে নেওয়ার এবং সেই সুখ অনুভব করার তীব্র ইচ্ছা হচ্ছে। আমি সব সময়ই এমনটা কল্পনা করতাম।’’ কপিল আরও যোগ করেছেন যে, আগে তাঁর বাড়ি ফেরার এত তাগিদ ছিল না। কিন্তু এখন তিনি তাঁর পরিবার এবং নবজাতকের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য উদ্গ্রীব।
অন্য দিকে হিমাচল প্রদেশে বসবাসকারী এবং জলশক্তি বিভাগে কর্মরত প্রদীপও একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করে বন্ধু এবং অনুরাগীদের জানিয়েছেন যে, কন্যাসন্তানের পিতা হয়েছেন তিনি। সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিষয়টি নিয়ে কুমন্তব্য করা এবং ভুল তথ্য না ছড়ানোরও অনুরোধ করেছেন।
গত বছরের মার্চে হিমাচলের সিরমৌর জেলার শিলাই গ্রামের ভ্রাতৃদ্বয় কপিল এবং প্রদীপ কয়েকশো গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে সামাজিক অনুষ্ঠান করে সুনীতাকে বিয়ে করেন। বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল ট্রান্স-গিরি এলাকায়। ভারতে বহুবিবাহের বিষয়টিকে আইনত স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। তাই হিমাচলের এই বিয়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিল। প্রদীপেরা হাট্টি সম্প্রদায়ের। তাঁদের সম্প্রদায়ে এক সময় বহুবিবাহের প্রচলন ছিল। এই প্রথাকে ‘জোড়িদার’ বলা হয়। সেই প্রথা অনুযায়ী এক জন তরুণী একই পরিবারের দুই বা তার বেশি যুবককে (সম্পর্কে ভাই) বিয়ে করতে পারেন। মনে করা হয়, পৈতৃক সম্পত্তির বিভাজন রোধ করার একটি উপায় হিসাবে এই প্রথাটির উৎপত্তি হয়েছিল।
বছর চারেক আগে হাট্টি সম্প্রদায়কে তফসিলি জনজাতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সম্প্রদায়টি হিমাচল-উত্তরাখণ্ডের সীমানায় থাকে। গত ছ’বছরে শুধু বাধানা গ্রামেই এ রকম পাঁচটি বিয়ে হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ফলে সেই ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে খুব একটা নতুন বিষয় নয় বলেও ওই সম্প্রদায়ের এক অংশের দাবি।
বিয়ের ১৩ মাস পরে এ বার মা হলেন সুনীতা। একসঙ্গে বাবা হলেন প্রদীপ এবং কপিল। কাপিল বাহরিনে রন্ধনশিল্পী হিসাবে কাজ করেন। ভাই প্রদীপ হিমাচল প্রদেশের জলশক্তি বিভাগে কর্মরত। ভিন্ন পেশাগত জীবন এবং ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বসবাস করা সত্ত্বেও পরিবারটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন