সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

চবিতে ‘প্ল্যাকার্ড’ হাতে ছাত্রলীগ নেতার অবস্থান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবি

সোনার দেশ ডেস্ক ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৩ অপরাহ্ন রাজনীতি
সোনার দেশ ডেস্ক ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৩ অপরাহ্ন
চবিতে ‘প্ল্যাকার্ড’ হাতে ছাত্রলীগ নেতার অবস্থান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবি

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা।


রোববার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় তাকে একাই দাঁড়িয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।


তার হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল-‘ছাত্রলীগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কর, করতে হবে’। তার নিচে লেখা-‘প্রতিবাদে: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ’।


ছাত্রলীগের এই নেতার নাম ওয়াহিদুল আলম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক।


২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই মাস পর ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে দলের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।


সংগঠনটির বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার ও সরকার পতন আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতা ’হত্যা’ ও অসংখ্য মানুষের ‘জীবন বিপন্ন‘ করা এবং বিভিন্ন সময় ‘সন্ত্রাসী’ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।


ওয়াহিদুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। একইসঙ্গে দেশে চলমান ছাত্রলীগের উপর ‘মব’ সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে।”


ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, “আমি গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি এবং ইতোমধ্যে বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের তথ্য যাচাই করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।


“যাচাই–বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রশাসনকে জানানো হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


তিনি বলেন, “এ ধরনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকেই আসে, তাই প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে।”


বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, “আমরা কোনোভাবেই স্বৈরাচারী শক্তির নেতাকর্মীদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেব না।


“যেহেতু তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বিদ্যমান, তাই এ বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থান বজায় রাখবো।”


ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “আগেও ওই শিক্ষার্থীর ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম দেখা গেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি।


“তার যে একাডেমিক ও সামগ্রিক শাস্তি প্রাপ্য ছিল, তা যদি কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হতো, তাহলে এমন কর্মকাণ্ডের সাহস পেতেন না।”


বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে, বলেন তিনি।


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ-চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনটি বহু আগেই শিক্ষার্থীদের কাছে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তারা বর্তমানে আবারও মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হওয়ার মতো সাহস তাদের নেই। তারা লুকিয়ে-গোপনে বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে।”


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ