সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী!

সোনার দেশ ডেস্ক ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৩ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৩ অপরাহ্ন
বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী!
ছবি: সংগৃহীত।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মেরামতির লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ মোদি সরকারের। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বর্তমান বিজেপি নেতা পশ্চিমবঙ্গের দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ করা হবে। কূটনীতিবিদ প্রণয় বর্মার পরিবর্তেই নিযুক্ত হতে চলেছেন ত্রিবেদী। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট মিটলেই শুরু হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া। 


তৃণমূলে থাকাকালীন ত্রিবেদী দীর্ঘদিন কেন্দ্রের ইউপিএ সরকারের রেল এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের মন্ত্রিত্ব সামলেছেন । ২০২১ সালে তৃণমূল ছেড়ে যোগ দেন বিজেপিতে। বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় বর্মাকে সরিয়েই প্রতিনিধিত্ব করবেন ৭৫ বছরের বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতা। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হবে প্রণয় বর্মাকে।। বিধি মেনে ঢাকার তারেক রহমানের সরকারের কাছে নাম প্রস্তাব করবে ভারত সরকার। তারপর আনুষ্ঠানিক সম্মতি মিললেই ওই পদে কাজ শুরু করতে পারবেন ত্রিবেদী।


সাধারণত একজন পেশাদার কূটনীতিবিদকেই রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিয়োগ করা হয়। তার পরিবর্তে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করাকে বিশেষ কূটনৈতিক কৌশল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 


বাংলাদেশের হাসিনা সরকারের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক থাকলেও ২০২৪ সালে জুলাই-অগস্ট মাসে শুরু হয় গণঅভ্যুত্থান। তবে হাসিনা সরকারের পতনের সময় থেকেই ধীরে ধীরে কূটনৈতিক সম্পর্কে বদল ঘটে। মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। তাই তারেক রহমানের সরকার গঠনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির লক্ষ্যেই একজন রাজনীতিবিদকে কূটনৈতিক পদে নিয়োগ করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। 


অবাঙালি হলেও দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গে থাকার জন্য দীনেশ ঝরঝরে বাংলা বলেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে যোগসূত্রও বহুদিনের। বাংলার সংস্কৃতি নিয়েও সম্যক ধারণা রয়েছে তাঁর। তাই তাঁর হাত ধরে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কও নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 


নিয়মমতো ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস আধিকারিকদেরই রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু প্রতিবেশী দেশে যে ভাবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হচ্ছে, তাতে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে কূটনীতিকদের বদলে প্রয়োজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের। এর আগেও একই কারণে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগ-কে সেশেলসে পাঠানো হয়েছিল।  তবে মনে করা হচ্ছে, পেশাদার কূটনীতিকদের বদলে একজন দক্ষ রাজনীতিকের ওপর ভরসা আমলাদের উপর একটি পরোক্ষ চাপ বা চ্যালেঞ্জও তৈরি করবে।


তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন