ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস কর্মী খুন: ‘খাইট্টায়’ ১৫ টুকরো করা হয় মরদেহ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস সিপাহী রাকিব রায়হান হত্যা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকালে তাদের আদালতে তোলা হয়েছে বলে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামের ফজলুল হক মির্জার ছেলে মো. রাজু মির্জা (২২) ও অনন্তপুর গ্রামের সুরুজ মির্জার ছেলে মো. সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল (২০)।
তাদের মধ্যে রাজু নিহত রাকিব রায়হান তালুকদারের বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রায়হানকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ পান করানো হয়। এতে রাকিব রায়হান ঘুমিয়ে পড়লে মাথায় বড় লোহা রড় দিয়ে আঘাতে হত্যা করে পরে টয়লেটে নিয়ে গরুর মাংস কাটার খাটিয়ায় ফেলে মরদেহ ১৫ টুকরা হয়।
৪০ বছর বয়সী নিহত রাকিব রায়হান ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামের ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে এবং ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে চলে যেতেন। এরই মধ্যে গত ২৪ জুলাই বিকাল ৫টা থেকে ৫টা ২০ মিনিটের মধ্যে তিনি নিজ ঘর থেকে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের পর আত্মীয়-স্বজন ও কর্মস্থলে যোগাযোগ করলেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। তিনদিন পর ২৭ জুলাই তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরে গত ২ অগাস্ট ফূরবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে পরিত্যক্ত খাল থেকে তিনটি ব্যাগে রাকিব রায়হানের ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে গত ৪ অগাস্ট ফুলবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার আসামিদের দেখানো তথ্য মতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাপাতি, একটি লোহার রড, তিনটি ছুরি, গরুর মাংস কাটার একটি কাঠের খাটিয়া, রক্তমাখা পাঞ্জাবি জব্দ করা হয়। ওইদিন রাত দুইটার দিকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
“প্রধান আসামি রাজু মির্জা দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে রাকিব রায়হান তালুকদারের বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার রাতে রায়হানকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করান রাজু। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় এবং ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেয়।”
তিনি বলেন, “পরে মরদেহ গুম করার জন্য অপর আসামি মো. সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলের সহযোগিতায় মরদেহ টয়লেটে নিয়ে গরুর মাংস কাটার খাটিয়ায় রেখে ১৫ টুকরা করে বিভিন্ন অংশ তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও কাপড়ে পেঁচিয়ে বাড়ির পূর্ব পাশে পরিত্যক্ত ডোবার ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রাখে।
“হত্যার পর ঘটনাস্থলের আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ডিটারজেন্ট পাউডার, হ্যান্ডওয়াশ, হারপিকসহ বিভিন্ন পরিষ্কারক সামগ্রী দিয়ে ঘর ও বাথরুম পরিষ্কার করে দুজন।”
রাকিব রায়হান নিখোঁজ থাকার সময় তার মোবাইল ফোন ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলনের ঘটনাও ঘটে। বিষয়টিকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেন, “মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য, আর্থিক লেনদেন, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং অন্যান্য সম্ভাব্য আলামত যাচাই-বাছাই অব্যাহত রয়েছে।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ