বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

পার্বতীপুরে মিনি চিড়িয়াখানায় উট পাখির সফল প্রজনন

এম এ আলম বাবলু,পার্বতীপুর ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:০৪ অপরাহ্ন জাতীয়
এম এ আলম বাবলু,পার্বতীপুর ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:০৪ অপরাহ্ন
পার্বতীপুরে মিনি চিড়িয়াখানায় উট পাখির সফল প্রজনন

দেশের উত্তরাঞ্চলের রেলওয়ে জংশন খ্যাত ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার একটি গ্রামের মিনি চিড়িয়াখানায় উট পাখির সফল প্রজনন হয়েছে।


জানা গেছে, পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নে মরনাই গ্রামে উট পাখিসহ বন্য প্রাণী সমৃদ্ধ একটি মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক স্থাপন করা হয়েছে।


এই মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কটির উদ্যোক্তা পার্বতীপুর উপজেলার মরনাই গ্রামের বাসিন্দা প্রকৌশলী মো. রইস উদ্দিন মিয়া বাবুল। তিনি শখের বসে তার নিজ উদ্যোগে মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কটি স্থাপন করেছেন। প্রতিদিন এই পার্কটিতে স্থানীয় ও বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা পরিদর্শনে আসেন এবং উট পাখিসহ অন্যান্য বন্য প্রাণী দেখে তৃপ্ত হন।


পার্কটি পার্বতীপুর উপজেলা হাবড়া ইউনিয়নের মরনাই গ্রামের পাশে তাহেরপাড়া বাজার সংলগ্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কটিতে বিশাল দেহ, লম্বা ঘাড় আর শক্তিশালী পা-উড়তে না পারলেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখি, উট পাখি এখানকার বিশেষ আকর্ষণ। দেশের প্রত্যন্ত এলাকা পার্বতীপুর উপজেলার পল্লীতে এই পাখির সফল প্রজননে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কটি।


পার্কটিতে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ডিম থেকে ফুটেছে ৭টি উট পাখির বাচ্চা। এরমধ্যে একটি মারা গেছে। বর্তমানে ৬টি বাচ্চা সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে। গত ২৪ মে বাচ্চা গুলো ডিম থেকে ফুটে বের হয়েছে।


পার্কের স্বত্বাধিকারী ও উদ্যোক্তা প্রকৌশলী মো. রইচ উদ্দীন মিয়া বাবুল জানান, কয়েক মাস আগে ঢাকার একটি স্থান থেকে দুটি উট পাখি এই পার্কে নিয়ে আসা হয়। উট পাখি নিয়ে আসার এক সপ্তাহের মধ্যে পাখি দু’টি ২৪টি ডিম দেয়। ডিমগুলো দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-হাবিপ্রবি’র জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ইনকিউবেটরে রাখা হয়।


এরমধ্যে ডিম থেকে ৫টি বাচ্চা হাবিপ্রবি’র গবেষণাগারের ইনকিউবেটরে এবং দু’টি পাকের নিজস্ব ইনকিউবেটরে ডিম থেকে সফলভাবে বাচ্চা ফুটেছে।


বাচ্চাগুলো নিরাপদে বেড়ে উঠার স্বার্থে বিষয়টি এতোদিন অনেকটা গোপন রাখা হয়েছিল।  আগষ্ট মাসের মধ্যে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম ও জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাগণ পার্কটি পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে উট পাখির বাচ্চা জন্মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকেই বাচ্চাগুলো দেখতে প্রতিদিন পার্কে দর্শনার্থীদের ভীড় বাড়ছে।


জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের অভিমত, একটি উট পাখি বছরে ৬০ থেকে ৮০টি পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। প্রতিটি ডিমের ওজন প্রায় দেড় কেজি হয়ে থাকে। ঘাস,শাক-সবজি ও পোল্ট্রি ফিডসহ বিভিন্ন সহজলভ্য খাবার উট পাখির খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।


সংশ্লিষ্টদের অভিমত, সৌখিনতার পাশাপাশি উট পাখি পালনে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়ানো গেলে বাণিজ্যিক উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।