মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আবারো স্কুল ফিডিংয়ে বিষক্রিয়া!

সোনার দেশ ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আবারো স্কুল ফিডিংয়ে বিষক্রিয়া!

কীভাবে বারবার দুর্ঘটনা ঘটতে পারছে?

শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, উপস্থিতি বাড়ানো এবং ঝরে পড়া বন্ধের লক্ষ্য নিয়ে দেশের ১৫০টি উপজেলায় প্রাথমিকে ‘মিড-ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী এই কর্মর্সূচির আওতায় আছে। কিন্তু স্কুলে যে মানের খাদ্য সরব্রাহ করা হচ্ছে- তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এখন প্রায়ই সংবাদ মাধ্যমে সরবরাহ খাদ্যের মান নিয়ে খবর প্রকাশিত ও প্রচারিত হচ্ছে। 


চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কয়েকটি স্কুলে সরবরাহকৃত খাদ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অন্তত ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে অসুস্থ অবস্থায় তাদের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের সবারই পেটব্যথাসহ খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিভিন্ন উপসর্গ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবার খাওয়ার পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। 


এ ঘটনায় খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাম উন্নয়ন কর্মকে (গাক) এক লাখ টাকা জরিমানা এবং ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগেও চারটি বিদ্যালয়ে গাকের সরবরাহ করা স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা ও তদন্ত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিম্নমানের স্কুল ফিডিং পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ার পেছনে মূল কারণ সরবরাহকারী ঠিকাদারদের অতি মুনাফা লোভ, সঠিক তদারকির অভাব এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাবারের সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দায়ি করা হয়। সরকার প্রাথমিকে ঝরে পড়া রোধ এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতে এই বড় প্রকল্প চালনা করলেও কিছু অসাধু চক্র ও অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীদের পচা কলা, নষ্ট ডিম বা বাসি পাউরুটি দেয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। 


একটি অতি সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রকল্পে কীভাবে বারবার এমন অনিয়ম ঘটতে পারছে? সরবরাহের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল আনুষ্ঠানিক ‘তদন্ত কমিটি’ গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা স্রেফ আমলাতান্ত্রিক দায়সারা উদ্যোগ বৈ কিছু নয়। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অজুহাত হিসেবে যাই বলুক না কেন তাদের মাননিয়ন্ত্রণ ও প্যাকেজিং ব্যবস্থার মধ্যে যথেষ্ট গাফিলতি রয়েছে।


শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দকৃত পুষ্টিকর খাবারের নামে যদি পচা-নষ্ট খাদ্য কিংবা মারাত্মক জীবনঘাতী উপাদান পৌঁছে দেয়া হয়, তবে তা কেবল অপরাধ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের নজিরও। মাঠপর্যায়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস বা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিদিনের কঠোর তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো সুযোগ নিচ্ছে-যার শিকার হচ্ছে শিশুরা। এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হওয়া দরকার। সংশ্লিষ্টরা সচেষ্ট ও সতর্ক হবেন- অন্যথায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা অসম্ভব কিছু নয়।