মোহনপুরে মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং বিষয়ে কর্মশালা
কৃষিজমি সুরক্ষা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন নিয়ন্ত্রণ এবং ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে রাজশাহীর মোহনপুরে মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং বিষয়ে অবহিতকরণ, যাচাই ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় মোহনপুর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্প, ভূমি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং উপজেলা প্রশাসন, মোহনপুরের সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার।
কর্মশালায় ভূমি জোনিংয়ের প্রয়োজনীয়তা, মৌজা ও প্লটভিত্তিক ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ, ভূমির ব্যবহার নির্ধারণ, তথ্য যাচাই এবং ভবিষ্যৎ ভূমি ব্যবস্থাপনায় এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় বলা হয়, ভূমি জোনিং হচ্ছে সরকারের পরিকল্পিত একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ভূমির ব্যবহারযোগ্যতা, প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, পরিবেশগত প্রভাব ও উন্নয়ন কৌশল বিবেচনায় নিয়ে দেশের ভূমিকে বিভিন্ন ব্যবহারভিত্তিক অঞ্চলে চিহ্নিত করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষিজমি সুরক্ষার পাশাপাশি অপরিকল্পিত আবাসন, শিল্পায়ন ও অন্যান্য ভূমি ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালায় প্রকল্পের জিআইএস অ্যান্ড আরএস এনালিস্ট মো. রাসেদ সারোয়ার এবং কৃষি স্পেশালিস্ট মো. মাহবুব ইসলাম ভূমি জোনিংয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূমির তথ্য বিশ্লেষণ, সরেজমিন পরিদর্শন এবং ব্যবহারভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের প্রক্রিয়াও অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমি জোনিংয়ের আওতায় ভূমিকে ১৮টি জোন বা অঞ্চলে শ্রেণিবিন্যাসের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কৃষি অঞ্চল, বিশেষ কৃষি অঞ্চল ও কৃষি-মৎস্য চাষ অঞ্চল রয়েছে। পাশাপাশি নদী-খাল, জলাশয়, জলাধার ও জলাভূমি, বন ও রক্ষিত এলাকা, পরিবেশগত সংকটাপন্ন বা সংবেদনশীল এলাকা, পাহাড়-টিলা ও পতিত ভূমিও পৃথক শ্রেণিতে বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে শহুরে ও গ্রামীণ আবাসিক এলাকা, মিশ্র ব্যবহার, বাণিজ্যিক ও শিল্পাঞ্চল, পরিবহণ ও যোগাযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক ও নাগরিক সুবিধা এবং সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী এলাকাসহ অন্যান্য ভূমি ব্যবহারের শ্রেণিও জোনিংয়ের আওতায় থাকবে।
কর্মশালায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান বলেন, পরিকল্পিত ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ভুল তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৌজা ও প্লটভিত্তিক ডিজিটাল জোনিংয়ের মাধ্যমে কোন জমি কী কাজে ব্যবহার হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কোন এলাকায় কী ধরনের ব্যবহার উপযোগী—তার একটি তথ্যভিত্তিক কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে ভূমি ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়ার পাশাপাশি কৃষিজমি সংরক্ষণেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।
কর্মশালায় মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা, মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. খন্দকার সাগর আহমেদ, যুব কর্মকর্তা সৈয়দ আলী রেজা, সমাজসেবা কর্মকর্তা ইমাম হাসান শামীম, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা উম্মে সুমাইয়া, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা আরজুমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া মোহনপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সহকারী অধ্যাপক মফিজুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী অধ্যাপক আসাদ আলী, সাবেক উপাধ্যক্ষ মকবুল হোসেন, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাবলু, ওসি এলএসডি সুজন চন্দ্র মন্ডল, মোহনপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এবং জাহানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ভূমি জোনিংয়ের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য যাচাই এবং জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নগরায়ণ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে কৃষিজমি ও জলাভূমির ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ভূমির শ্রেণি ও ব্যবহার নির্ধারণ করে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ডিজিটাল ভূমি জোনিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে কৃষি, আবাসন, শিল্প, পরিবেশ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় এটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে।