বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে গায়ে হলুদের দিনে বাবা মায়ের দাফন করতে হলো ছেলেকে

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩৫ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীতে গায়ে হলুদের দিনে বাবা মায়ের দাফন করতে হলো ছেলেকে

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ধুমধাম করে একমাত্র ছেলে শাকিল আহমেদ সিয়াম এর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রায় ৪শো আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিদের দাওয়াত দেওয়াসহ বিয়ের সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ের অনুষ্ঠান আর হচ্ছে না। বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হলেও বিয়ে বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম।  


বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) ছেলের বিয়ের বাজার করে বাড়ি ফেরার সময় ট্রাক চাপায় প্রাণ হারান বাবা-মা। ঈশ্বরদী শহরের আলহাজ্ব মোড়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আনোয়ার হোসেন ঢুলি মালিথা (৫৭) ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন (৪০)। ঢুলি মালিথা উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সাহাপুর মালিথাপাড়া গ্রামের মৃত টুনি মালিথার ছেলে। আর নিহত স্বপ্না খাতুন উপজেলার মানিকনগর বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মধু বিশ্বাসের মেয়ে। এই দম্পতির একমাত্র ছেলে শাকিল আহমেদ সিয়ামের সঙ্গে সাহাপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আরিফুল ইসলামের মেয়ে নিঝুম আক্তারের বিয়ের আয়োজন নিয়ে সাহাপুর গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে প্রস্তুতি চললেও শেষ পর্যন্ত বাবা-মায়ের করুণ মৃত্যুর কারনে আয়োজন বন্ধ করা হয়েছে। গতকাল সিয়ামের গায়ে হলুদের দিনে তার নিহত বাবা-মায়ের জানাজা ও দাফন করা হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিয়ের পূর্বনির্ধারিত আয়োজনও বন্ধ করা হয়েছে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, ঢুলি মালিথা ৩০ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে ধুমধাম করে ছেলে সিয়ামের সঙ্গে নিঝুম আক্তারের বিয়ে দিয়ে পুত্রবধুকে বাড়িতে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ছেলের বিয়ের বাজার করতে বুধবার সন্ধ্যায় স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে মোটর সাইকেল চালিয়ে ঈশ্বরদী বাজারে গিয়ে বাজার করে আনন্দচিত্তে বাড়ি ফিরছিলেন ওই দম্পতি। বাজার শেষে মোটরসাইকেলে ঈশ্বরদী শহরের আলহাজ্ব মোড়ে এলে একটি ট্রাক চাপায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই স্ত্রী স্বপ্না খাতুন মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বামী ঢুলি মালিথাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। তবে মানবিক কারনে পোষ্টমর্টেম না করে লাশ দাফনের অনুমতি দেয় পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং মানবিক কারণে ময়না তদন্ত ছাড়াই স্বামী-স্ত্রীর লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।