শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

সোনার দেশ ডেস্ক ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৪ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৪ অপরাহ্ন
বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য জোট রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। বাংলাদেশসহ চার দেশ ও অঞ্চলের সদস্যপদ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বিশেষ বা অ্যাডহক অ্যাকসেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সুপারিশ অনুমোদন করেছেন জোটের বাণিজ্যমন্ত্রীরা।


ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় গত ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পঞ্চম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরসিইপি যৌথ কমিটির (আরজেসি) দেওয়া সুপারিশে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি জানান সদস্যদেশগুলোর বাণিজ্যমন্ত্রীরা।


বাংলাদেশ ছাড়া এই বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপের আওতায় রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ চিলি, দক্ষিণ এশিয়ার শ্রীলঙ্কা এবং হংকং (চীন)।


বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আরসিইপি একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাণিজ্য কাঠামো বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


জোট সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে অ্যাডহক ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে।


আসিয়ানের ১০ সদস্যদেশের পাশাপাশি চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত আরসিইপিকে বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য জোট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


এই জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি হলে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা, নতুন বাজারে প্রবেশ, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত হওয়া এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা।


বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের পর বিভিন্ন দেশে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা হারানোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় আরসিইপি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি হতে পারে।


বৈঠকে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় সদস্যপদপ্রত্যাশী দেশগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিদ্যমান অপ্রয়োজনীয় বাধা দূর করা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।


যৌথ বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি এবং নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য ড. শেন রেটি সহসভাপতিত্ব করেন।


তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ