বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

রাজশাহীতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আরএমপি কমিশনারের মতবিনিময়

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৪৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৪৯ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আরএমপি কমিশনারের মতবিনিময়

রাজশাহী মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাইবার অপরাধ, মাদক-জুয়া নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও জনবান্ধব পুলিশিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএম।


বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় আরএমপি সদর দপ্তরের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।


সভায় গণমাধ্যমকর্মীরা মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও জুয়াবিরোধী অভিযান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, সিসিটিভি সম্প্রসারণ এবং জনবান্ধব পুলিশি সেবা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।


সাইবার অপরাধ প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার বলেন, বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তি কিংবা ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরিচালিত সাইবার অপপ্রচার নিয়ন্ত্রণে আইনি ও প্রযুক্তিগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নিতে আদালতের নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। মেটার বাংলাদেশে নিজস্ব কার্যালয় না থাকা এবং তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডের কারণে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতেও ২০ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কোনো ওয়েবসাইট বা আইডি ব্লক করার বিষয়টি বিটিআরসির এখতিয়ারভুক্ত।


তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (অও) অপব্যবহার, ডিপফেক, গুজব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভিউ ব্যবসা’র জন্য তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট সামাজিক ও পারিবারিক অস্থিরতা তৈরি করছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত ও আইনগত সক্ষমতার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।


জিডি তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, আমলযোগ্য ও আমলঅযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া ভিন্ন। আমলঅযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জিডি তদন্তে আদালতের অনুমতি ও শুনানির তারিখের প্রয়োজন হওয়ায় সময় লাগতে পারে। এটি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।


মাদক ও জুয়াবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আদালত সামারি ট্রায়াল ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিচ্ছেন। তবে দারিদ্র্য ও দ্রুত লাভের আশায় পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা এবং স্থানীয়দের সাক্ষী হতে অনীহা এসব মামলায় সাজা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। অনুমোদনহীন অটোরিকশা চার্জিং পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণে নেসকোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অটোরিকশা ডাম্পিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান খোঁজা হচ্ছে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে আরডিএ ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম চলছে। তবে এর সঙ্গে মানুষের জীবিকা ও সাশ্রয়ী কেনাকাটার বিষয়টি জড়িত থাকায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানান তিনি।


মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশ কমিশনার বলেন, দিনে-দুপুরে বড় ধরনের বা সংঘবদ্ধ অপরাধ বলতে গেলে নেই। সংঘটিত অপরাধের অধিকাংশই পারিবারিক কলহ বা তুচ্ছ ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে সৃষ্টি হচ্ছে।


অপরাধী শনাক্তকরণ ও নজরদারি জোরদারে সিটি করপোরেশনের আওতার বাইরে মহানগরীর ছয়টি থানাকে সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পাঁচ জেলার নয় সদস্যের একটি আন্তঃজেলা স্বর্ণ চুরি চক্রের সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।


জনবান্ধব পুলিশিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, থানায় সেবা নিতে আসা মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে কমিশনারের কার্যালয় থেকে সরাসরি ফোন করে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। দ্রুত, কার্যকর ও হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর দায়িত্বে মোহাম্মদ খোরশেদ আলম পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. নূর আলম সিদ্দিকী, উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মাঈনুল ইসলাম পিপিএম (বার), উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান পিপিএমসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।#