ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক নিয়োগে ক্ষোভ
রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমির নতুন পরিচালক নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে আদিবাসী নেতৃবৃন্দদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, এবার একাডেমির পরিচালক হিসেবে রাজশাহী বিভাগের বাইরে থেকে দেওয়া হচ্ছে। এবং যাকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে তিনি সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর না।
এর আগে দুই দফা সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সেখানে রাজশাহী অঞ্চল থেকে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী থেকে নেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে। তবে যাকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে তিনি ঠাকুরগাঁয়ের বাসিন্দা। কিন্তু আদিবাসী নেতারা চাচ্ছেন রাজশাহী অঞ্চল থেকে কাউকে নিয়োগ দিতে।
গেল ২১ সেপ্টেম্বর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, বান্দরবান, রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, হালুয়াঘাট এর চুক্তিভিত্তিক পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রস্তাবিত ব্যক্তিরা এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক পরিচালক নিয়োগ হবেন।
রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির মনোনীত করা হয়েছে কাঞ্চন সিংকে। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা। এতে বলা হয়, বর্ণিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক পরিচালক হরেন্দ্র নাথ সিংয়ের চুক্তির মেয়াদ বাতিলপূর্বক কাঞ্চন সিংকে নিয়োগের কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো। চিঠির শেষে ০২। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সম্মতি আছে বলে উল্লেখও করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই চিঠি পাঠিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব শিউলী হরি।
সম্প্রতি আদিবাসী নেতৃবৃন্দ সংস্কৃতিমন্ত্রী দুটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তারা লিখেছেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় ও সংখ্যাগরিষ্ট জাতিসত্ত্বা/সম্প্রদায়েকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন-২০১০ এর ধারা: ১১(১) এ বর্ণিত আছে; “প্রত্যক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন পরিচালক থাকিবেন। যিনি সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন।” আমরা রাজশাহী বিভাগের বাইরের কাউকে পরিচালক হিসেবে প্রত্যাশা করি না। কেন না এতে করে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হবে এবং একাডেমি স্থাপনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ব্যাহত হবে। তাই আমরা চাই, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বয়স সবকিছু বিবেচনায় রেখে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও ও উন্নয়ন কর্মী, স্কুল ও কলেজ শিক্ষক, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গবেষকদের মধ্য হতে পরিচালকের মত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হোক।
এ বিষয়ে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড় বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের অনেক আদিবাসী শিক্ষিত মানুষ আছেন। তারা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিও বোঝেন। কিন্তু বাইরে থেকে কাউকে দিলে আমাদের সংস্কৃতি বুঝবে না। এতে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাধার মুখে পড়বে। তাই আমরা চাচ্ছি রাজশাহীর মধ্যে কাউকে পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হোক।
উল্লেখ, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দুই বছর মেয়াদে রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমির পরিচালক পদে হরেন্দ্র নাথ সিংকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম আদিবাসী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। আগামী নভেম্বরে তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে।