বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

তানোরে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

তানোর প্রতিনিধি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:২৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
তানোর প্রতিনিধি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:২৫ অপরাহ্ন
তানোরে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

তানোরে চার বছরের এক শিশুকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ষষ্ঠ শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর, তার মা ও দাদিকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন শিশুটির মা। পরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।


অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের রামদেবপুর গুচ্ছগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার সেলিম রেজার ছেলে সবুজ (১২) খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশুটিকে একটি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।


শিশুটির মা জানালা দিয়ে বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে দরজা খুলে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়। পরে অভিযুক্তের মা ও দাদি শিশুটির চিকিৎসার খরচ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটির মাকে অনুরোধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


এরপর শিশুটি বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে অভিযুক্তের স্বজনরা শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে আর খোঁজ নেননি এবং অভিযুক্তকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয় বলে শিশুটির পরিবারের অভিযোগ।


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শিশুটির মা তানোর থানায় গিয়ে সবুজ, তার মা ও দাদিকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর মুন্ডমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন।


শিশুটির পরিবারের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পরও তাদের বিষয়টি আপস করে নিতে বলা হয়েছিল। তবে এসআই শফিকুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তানোর থানার ওসিকে জানানো হয়েছে।’


শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সকালে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্তের বাবা সেলিম রেজা মুঠোফোনে বলেন, তিনি বর্তমানে ফরিদপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করছেন। ছেলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের কথা শুনেছেন। তার ছেলে নানার বাড়িতে থাকে এবং বাড়িতে বেড়াতে এসে ঘটনাটি ঘটেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে ঘটনাটি সত্য কি না, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।


তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অভিযুক্ত কিশোরের বয়স নিয়েও যাচাই করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সঠিক বয়স নিশ্চিত হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।