বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

রাজশাহীতে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫৯ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার

রাজশাহীতে সংকট নেই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের।  তবুও বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি সিলিন্ডার। বিক্রেতাদের দাবি, বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। কয়েকটি কোম্পানি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ রেখেছে কয়েক মাস থেকে। ভোক্তাদের অভিযোগ, বাড়তি দাম দিয়েও অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।


সেপ্টেম্বর মাসের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু রাজশাহীর অধিকাংশ দোকানেই এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে। ৩৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৬ হাজার টাকার মধ্যে।


বিক্রেতারা বলছেন, গেল কয়েক মাস থেকে বসুন্ধরা ও ওমেরা কোম্পানির গ্যাস সরবরাহ বন্ধ আছে। অথচ এই দুই গ্যাসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানির গ্যাসের সরবরাহ থাকলেও তার চাহিদার তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। গ্যাসের দাম বাড়তি হওয়ার পরও তারা গ্যাস ঠিকভাবে পাচ্ছেন না, এতে দৈনন্দিন রান্নার কাজে বিঘ্ন ঘটছে সাধারণ গৃহিণী থেকে হোটেল ব্যবসায়ীদের জন্যও।


এদিকে রাজশাহীর খুচরা গ্যাস বিক্রেতারা বলছেন, বাংলাদেশে ১৬টি কোম্পানির মধ্যে আইগ্যাজ, ফ্রেস বিএম, পেট্রোম্যাক্স ও সানের কাছে থেকে রেগুলার গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে। তবে মাঝে মধ্যে তারাও সরবরাহ দিতে পারে না।


বিক্রেতাদের দাবি, বিএম ১৫৯০ কেনার পর বিক্রি ১৬৫০ টাকায়, যমুনা ১৬৩০ টাকায় কেনা এবং বিক্রি ১৬৮০ টাকায় আর সান কোম্পানির গ্যাস ১৬৩০ টাকায় কিনে বিক্রি করছেন ১৬৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে বাড়িতে পৌছে দিলে অতিরিক্ত ৫০ টাকা নেওয়া হয়।


নগরীর সাধুর মোড়ে একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে এসেছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী অয়ন ইসলাম। দোকানে এসে তিনি জানতে পারেন, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা। অথচ এর আগে একই সিলিন্ডার তিনি কিনেছিলেন ১ হাজার ৬০০ টাকায়। বাড়তি দাম নিয়ে দর-কষাকষি করেও লাভ হয়নি। কারণ, সিলিন্ডারটি নেয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন অন্য ক্রেতারাও।


অয়ন বলেন, দোকানদারকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা রাখার কথা বলেছি। জবাবে দোকানদার বললেন, বর্তমানে গ্যাস নেই, তাই ১ হাজার ৭৫০ টাকাই দিতে হবে। দোকানে আরও দুই-তিনজন ক্রেতা অপেক্ষা করছেন বলেও জানান তিনি। অয়ন সিলিন্ডারটি না নিলে অন্য ক্রেতা নিয়ে যাবেন এমন পরিস্থিতির কথাও জানান দোকানদার।

শুধু গৃহস্থালি ব্যবহারকারী নয়, বাড়তি দামের কারণে চাপে পড়েছেন ছোট ব্যবসায়ীরাও। নগরীর শিরোইল এলাকার চা দোকানদার আরিফ মঙ্গলবার সকালে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনেছেন ১ হাজার ৮০০ টাকায়। 


তিনি বলেন, বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, তাই বাড়তি দাম দিয়েই দোকানের জন্য সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এতে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমাদেরও চলতে কষ্ট হচ্ছে। চায়ের দাম বাড়াতে পারছি না। দাম বাড়ালে ক্রেতারা আপত্তি করেন। পাঁচ টাকা লাল চা ও ১৫ টাকা দুধ চায়ের দামে কীভাবে ব্যবসা করব।


এর মধ্যেও চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে এলপিজির সংকট নেই। তবে ক্রেতাদের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, নির্ধারিত দামে তো নয়ই, বাড়তি দাম দিয়েও অনেক সময় প্রয়োজনীয় সিলিন্ডার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।


একজন ক্রেতা বলেন, যে ডিলারের কাছে যাচ্ছি, তার কাছেই নাকি সিলিন্ডার নেই। ফলে মানুষ নিরুপায়। রান্না করতে হবে, খেতে হবে এ কারণে এলপিজির কোনো বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়েই বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে।


অন্যদিকে দোকানদাররা বলেন, আমাদেরও বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে আমাদের খরচ পড়ছে ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে। ফলে বিইআরসির নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকা দরে বিক্রি করলে আমাদের লোকসান হবে।


নগরীর রাণীবাজার এলাকার এক গ্যাস বিক্রেতা বলেন, আমরা ১ হাজার ৬৫০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনছি, অথচ সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। বিইআরসির নির্ধারিত দামের সঙ্গে কোম্পানির দামেরও পার্থক্য রয়েছে। ফলে ওই দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণেই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।