বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

বগুড়ায় সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধি ০১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বগুড়া প্রতিনিধি ০১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪২ অপরাহ্ন
বগুড়ায় সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের মরিয়া থেকে পেরিহাট পর্যন্ত ৮০০ মিটার সড়ক সংস্কারকাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি জানালেও তা উপেক্ষা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।


উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মরিয়া-পেরিহাট সড়কের ৮০০ মিটার অংশের পিচ ঢালাইয়ের কাজ পায় মেসার্স বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। কাজটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫৬ টাকা। প্রকল্পের আওতায় উন্নত মানের ইটের খোয়া দিয়ে ছয় ইঞ্চি পুরু ভিত্তি তৈরি করে পিচ ঢালাই করার কথা রয়েছে।


তবে সরেজমিনে গিয়ে সড়কের কাজে ধূসর ও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিম্নমানের খোয়া দিয়ে কাজ শুরু করলে তাঁরা ঠিকাদারের লোকজনকে বাধা দেন। কিন্তু তাঁদের আপত্তি আমলে না নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়।


স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের নির্ধারিত মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে দীর্ঘদিনেও সড়কের কাজ শেষ হয়নি। নতুন অর্থবছরে আবার কাজ শুরু হলেও শুরুতেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।


তাঁদের দাবি, সড়কটির পুরো নির্মাণকাজের মান যাচাই করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকি থাকলে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতো না বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।


অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি প্যারিস ইসলাম বলেন, বর্তমানে ভালো মানের খোয়া পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে সিরাজগঞ্জ থেকে আনা ভালো ও খারাপ মানের খোয়া মিশিয়ে কাজ করা হচ্ছে।


গাবতলী উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী রুম্মন ইসলাম বলেন, ঠিকাদার খোয়া রাস্তায় ফেলার সময় তাঁকে ফোন করেছিলেন। তিনি ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি। তবে ঠিকাদারকে ভালো মানের খোয়া ব্যবহারের কথা বলেছেন।


গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাঁরা পরিদর্শন করছেন। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলা হবে। নিম্নমানের খোয়া অপসারণ করা হবে। এ ধরনের খোয়া ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হবে। এরপরও অনিয়ম হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।