বাঘায় পানি কমতেই পদ্মার ভাঙন, হুমকিতে ২৫ বাড়ি
পদ্মার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর বাঘায় শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর চরে একের পর এক বাড়িঘর ও আমবাগান নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বর্তমানে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণে কালিদাসখালী এলাকায় অন্তত ২০ থেকে ২৫টি বাড়ি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকার বড় একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে পদ্মার পানি কমতে শুরু করে। এর পরপরই বিভিন্ন স্থানে নদীর পাড় ধসে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। ইতোমধ্যে অনেকের বসতভিটা, আমবাগান ও আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের মুখে অনেকে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ওয়ার্ডে প্রায় ৪০০ পরিবার ছিল। নদীভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে দেড় শতাধিক পরিবার বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছে। এবারের ভাঙনে আম ও মেহগনি বাগানসহ অনেক বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। এ ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২৬২ জন।
চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও কালিদাসখালী চরের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, গত এক সপ্তাহে অনেকের বাড়িঘর ও আমবাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও অনেকে ভাঙনের হুমকিতে রয়েছেন। ভাঙনের যে গতি, তাতে কালিদাসখালী ও লক্ষীনগরের অস্তিত্বও একসময় থাকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ফজলুল হক বলেন, চকরাজাপুরের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ ওয়ার্ডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পদ্মাগর্ভে চলে গেছে। বর্তমান গতিতে ভাঙন চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যে পুরো ওয়ার্ডই বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আনোয়ার শিকদার বলেন, তাঁর প্রায় ৩০ বিঘা জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ওয়ার্ডটিরও এখন আর আগের মতো কোনো অস্তিত্ব নেই। গত দুই বছরে এ ওয়ার্ডের তিন শতাধিক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে।
কালিদাসখালী চরের বাসিন্দা আলী হোসেন ও আলী ফকির বলেন, বসতভিটা করার জমিটুকুও নদীতে চলে গেছে। এখন অন্যের জমি লিজ নিয়ে সেখানে ঘর তুলে বসবাস করছেন। নদীভাঙনের কারণে বারবার জায়গা বদল করতে হচ্ছে।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, প্রতিবছরই নদীভাঙনে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বর্তমান ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতভিটা, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও পদ্মার গ্রাসে চলে যেতে পারে। তারা দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।