শিবগঞ্জে মাদক মামলায় দুই ছেলেকে আসামি করার প্রতিবাদে ৫০ মুক্তিযোদ্ধার সংবাদ সম্মেলন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দীনের দুই ছেলেকে আসামি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলার অর্ধশতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের দাবি, স্থানীয় একটি পক্ষের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউসি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দীন, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মফিজ উদ্দীন বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর বাড়ির সামনের বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি আমবাগানে জ্বালানি কাঠ ও খড় রাখার ঘর থেকে রাজশাহী থেকে আসা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৫-এর একটি দল ৬ কেজি ৭৫১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের দাবি করে। এ সময় তাঁর ছোট ছেলে মেহেদী হাসানকে বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে ওই ঘটনায় দায়ের করা মাদক মামলায় তাঁর মেজো ছেলে আল মামুনকেও আসামি করা হয়েছে।
মফিজ উদ্দীনের দাবি, ঘটনার সময় তাঁর মেজো ছেলে আল মামুন রাজশাহীতে শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। তাঁর দুই ছেলে বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িত নন। স্থানীয় একটি পক্ষের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এসআরবি সদস্যদের ব্যবহার করে তাঁদের মাদক মামলায় আসামি করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এতে তাঁর পরিবার সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, তাঁর দুই ছেলে মাদকের সঙ্গে জড়িত নন। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে তাঁর দুই ছেলেকে হয়রানি থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শিবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ইউনিট কমান্ডার ও দুলভপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রশীদ সনু বলেন, “মাদক দিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ফাঁসানো হয়েছে”—এমন অভিযোগ তুলে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মফিজ উদ্দীনের দুই ছেলের মধ্যে আল মামুন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদে কর্মরত ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অপর ছেলে মেহেদী হাসান স্বাস্থ্য বিভাগে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত।
সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা বালাদুল, সাত্তার, সেরাজুল, আনিসুর, হান্নানসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মফিজ উদ্দীনের স্ত্রী শেফালী বেগম, মেয়ে রিনা পারভিনসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে এসআরবি-৫-এর কমান্ডিং অফিসারের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এসআরবির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। মফিজ উদ্দীন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।