বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

নগরীতে পৃথক অভিযানে ৯ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ইয়াবা-হেরোইন-ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৪০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৪০ অপরাহ্ন
নগরীতে পৃথক অভিযানে ৯ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ইয়াবা-হেরোইন-ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার

রাজশাহীতে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে হেরোইন, ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বিভিন্ন ইউনিট। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।


আরএমপি সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে ডিবি পুলিশ বোয়ালিয়া থানার হোসনীগঞ্জ দক্ষিণ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সেলিমের ছেলে মো. আকাশকে (৩০) গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। আকাশের বিরুদ্ধে আরএমপির বিভিন্ন থানায় চারটি পেনাল কোড, দুটি মাদক ও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে।


একই রাতে পৌনে ১১টার দিকে ডিবি পুলিশ রাজপাড়া থানার আলিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাসুদ রানা (৪৭), সুমন (৩৪) ও আব্দুল্লাহকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে ১৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার মাসুদের বিরুদ্ধে দুটি এবং সুমনের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে।


এর আগে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বেলপুকুর থানা পুলিশ ধাদাস গ্রামের সেন্টুর (৪৫) বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সেন্টুর বিরুদ্ধে বেলপুকুর থানায় একটি এবং পুঠিয়া থানায় দুটি মাদক মামলা রয়েছে।


এ ছাড়া দুপুর সোয়া ১টার দিকে বোয়ালিয়া থানার শিল্পনগর পুলিশ ফাঁড়ি শিল্পীপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাওন আলী (১৯) ও সম্রাট ইসলামকে (২২) গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে ১৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।


অন্যদিকে, একই রাতে দামকুড়া থানা পুলিশ হরিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রায়হান (৩৮) ও মাসুদ রানা (৩৫) নামে আরও দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাসুম (৪৫) নামে আরেক আসামি পালিয়ে যায়।


গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা ও ২ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়া উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, জব্দ করা মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের ৯টি অ্যাপ, চারটি জিমেইল আইডি এবং বিকাশ-নগদে ব্যবহৃত চারটি নম্বর পাওয়া গেছে।


পুলিশ জানায়, পলাতক মাসুম দীর্ঘদিন ধরে রায়হান ও মাসুদের সহযোগী হিসেবে মাদক ব্যবসা ও অনলাইন জুয়া পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে আরএমপির বিভিন্ন থানাসহ সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী ও নাটোরের বিভিন্ন থানায় মাদক ও পেনাল কোড আইনে মোট ২১টি মামলা রয়েছে। রায়হানের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক ও পেনাল কোড আইনের মামলা রয়েছে।


গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দামকুড়া থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামি মাসুমকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।