বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

নাটোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি

নাটোর প্রতিনিধি ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নাটোর প্রতিনিধি ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪৭ অপরাহ্ন
নাটোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি

নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জাসমিন আহমেদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (৪ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন অভিভাবকরাও।


খবর পেয়ে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আবুল হায়াত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।


বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণিতে বোর্ড নির্ধারিত ফি যথাক্রমে ২৩৩ ও ২৮২ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ ও ৪০০ টাকা। নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি ৯৮ টাকা নির্ধারিত থাকলেও নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা।


এ ছাড়া বার্ষিক ভোজ ও টিফিনের বরাদ্দ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত মানসম্মত টিফিন দেওয়া হয় না। লিফলেটে প্রতিদিন বার্গার ও প্যাস্ট্রি দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সপ্তাহে এক-দুই দিন এসব খাবার দেওয়া হয়। কখনো বিস্কুট ও কেক দেওয়া হলেও খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।


অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্রের জন্য প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও দুই বছর পার হলেও অনেক শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র পায়নি। আইসিটি ফান্ডে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ক্রীড়া ফান্ডে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও এসব খাতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।


এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে ম্যাগাজিন প্রকাশনার নামে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও কোনো ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের ল্যাবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি, অপরিষ্কার টয়লেট এবং নিয়মিত ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।


অভিভাবকরা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলা থাকার কথা, তার যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ক্লাস, বেতন ও টিফিনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তারা বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।


তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জাসমিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘হয়তো কেউ ভুল তথ্য উপস্থাপন করিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাত্র ১০০ টাকা করে নিই। এত কম টাকায় মাসজুড়ে ১৫-২০ টাকা দামের বার্গার ও প্যাস্ট্রি দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা যে মানের টিফিন দিই, তার চেয়ে উন্নত মানের খাবার দেওয়া হলে তার বিলও রয়েছে। সরকার আমাকে সেই অতিরিক্ত অর্থ দেবে না।’


শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা দ্রুত বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।