আশ্বিনেও পঞ্চগড়ে দিনে গরম, ভোরে কুয়াশা-শিশির
আশ্বিন মাস শুরু হলেও পঞ্চগড়ে কমছে না দিনের গরমের প্রভাব। ভোর ও রাতে শীতের আমেজ অনুভূত হলেও সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রা ও গরমের অনুভূতি। ফলে একই দিনে সকাল, দুপুর ও রাতের আবহাওয়ায় দেখা দিচ্ছে বেশ পার্থক্য।
বিশেষ করে জেলার তেঁতুলিয়ায় ভোরের দিকে কুয়াশা ও ঠান্ডার অনুভূতি দেখা দিয়েছে। ঘাস ও গাছের পাতায় জমতে শুরু করেছে শিশির। এতে শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া গেলেও দিনের বেলায় তীব্র রোদ ও গরমে অস্বস্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, রোববার তেঁতুলিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। দিনে তাপমাত্রা বেশি থাকলেও রাতে তা কমে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরে বাইরে বের হলে ঠান্ডা অনুভূত হয়। কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর হলে আবহাওয়া পুরোপুরি বদলে যায়। প্রচণ্ড রোদ ও গরমে বাইরে চলাচল এবং স্বাভাবিক কাজকর্মে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। সন্ধ্যার পর আবার তাপমাত্রা কমতে শুরু করায় ফিরে আসে শীতের অনুভূতি।
এদিকে, দিন ও রাতের তাপমাত্রার এমন ওঠানামায় শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান জানান, তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে রোগী ভর্তি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে দীর্ঘদিন এভাবে তাপমাত্রার পার্থক্য চলতে থাকলে রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে।
আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া ভোর ও রাতে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শরতের কুয়াশা ও শিশিরে শীতের আগমনী বার্তা মিললেও দিনের গরম আপাতত পিছু ছাড়ছে না পঞ্চগড়বাসীর। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ধীরে ধীরে দিনের তাপমাত্রা কমে উত্তরাঞ্চলে শীতের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।