বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চাইলেন পুলিশ কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩০ অপরাহ্ন
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চাইলেন পুলিশ কমিশনার

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে রাজশাহী মহানগরীর প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতা ও পূজামণ্ডপ কমিটির সহযোগিতা চেয়েছেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএম।


রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় আরএমপির সদর দপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত সমন্বয় ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা ও আহ্বান জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।


সভায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় সংগঠন ও পূজামণ্ডপ কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


পুলিশ কমিশনার বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মহানগরীর প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং ধর্মীয় নেতাদের পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে, এমন কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে বলে জানান পুলিশ কমিশনার। পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক ও রাজনৈতিক সহায়তা দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম ও মোবাইল নম্বরের তালিকা পুলিশকে দিতে হবে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।


পূজামণ্ডপ নির্মাণ থেকে শুরু করে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে পুলিশ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। মহানগরীর বাইরের পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সহযোগিতা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশ কমিশনার।


পূজামণ্ডপের আশপাশে অবৈধ দোকানপাট বা হকার বসতে দেওয়া যাবে না বলে সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিং মোকাবিলায় প্রতিটি মণ্ডপে বিকল্প জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ৫ থেকে ৭টি চার্জিং বাল্ব প্রস্তুত রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়।


প্রতিমা বিসর্জনের সময় অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রয়োজনে সিরিয়াল বা টোকেন পদ্ধতি চালুর পরামর্শ দেন পুলিশ কমিশনার। নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি অনুসরণ এবং বিসর্জন কার্যক্রমে আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্য স্থানে মদসহ যেকোনো ধরনের মাদক সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পূজামণ্ডপের বাইরে মাদককে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অপরাধের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সভায় মহানগর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ৩০টি স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়। সংগঠনটির এক নেতা বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে জামায়াতে ইসলামী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য দলের নেতাকর্মীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে উৎসব উদযাপনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।


মহানগর ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতারাও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজামণ্ডপ কমিটিকে সহযোগিতা করবেন। বিভিন্ন পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের আশ্বাসও দেন তিনি।


রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। নিরাপত্তা, সিসিটিভি ক্যামেরা, সার্চলাইট ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।


পূজা চলাকালে এবং প্রতিমা বিসর্জনের দিন বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জা নিশ্চিত করতে নেসকোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ কমিটিগুলোকে অভ্যন্তরীণ বিভেদ এড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত মহানগরী গঠনে আরএমপির কার্যক্রমের প্রশংসাও করেন রাসিক প্রশাসক।


সভায় বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের রাজশাহী শাখার সভাপতি অচিন্ত কুমার বিশ্বাস প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান।


সভায় টুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, পিবিআই, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, এসআরবি-৫, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও নেসকোসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


এ ছাড়া আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মো. গোলাম রব্বানী শেখ পিপিএম (বার), উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো. আবুল কালাম সাহিদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান পিপিএমসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।