বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

রামেক হাসপাতালে এবার স্যালাইন সংকট!

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩৩ অপরাহ্ন
রামেক হাসপাতালে এবার স্যালাইন সংকট!

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবার সংকট দেখা দিয়েছে স্যালাইনের। এর আগে সিরিঞ্জের সংকট দেখা দিলেও তা সম্প্রতি দূর হয়েছে। হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থপনায় কিছু স্যালাইন দেওয়া হলেও ফার্মেসিগুলোতে এই স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে না।  


রামেক হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গেল সপ্তাহ থেকে কলয়েড স্যালাইন শেষ হয়েছে। স্যালাইনের চাহিদাও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। গেল সপ্তাহে হাসপাতালে দুই লাখ সিরিঞ্জ এসেছে। 


কলয়েড স্যালাইন- দুর্ঘটনা বা অস্ত্রোপচারের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, মারাত্মক আগুনে পুড়ে গেলে, হাইপোভোলেমিক শক (রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া) এবং সেপসিসের মতো জরুরি অবস্থায় রক্তচাপ দ্রুত বাড়াতে এটি ব্যবহৃত হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ২০টির বেশি স্যালাইন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দিতে পারছেন। 


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুতে এ বছরে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ জনই ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম থেকে রক্ষা করতে এই স্যালাইন দেওয়া হয়। রোববারের (৪ অক্টোবর) তথ্য অনুযায়ী হাসপাতালে ১৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।  


বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। রোববারে ৩০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। রোগীরা সবাই রাজশাহী ও এর আশেপাশের এলাকার বাসিন্দা। রোগীর সংখ্যা জুলাই থেকে বাড়তে শুরু করলেও সেপ্টেম্বর জুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ে কয়েক গুণ। তবে হাসপাতাল সংলগ্ন ওষুধের দোকানগুলোতেও এই স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে না। ওষুধ ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানী থেকে সরবরাহ কমে গেছে। তাই চাহিদা মতো সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তবে রোগীদের অভিযোগ, এই স্যালাইনের দাম বেশি না হলেও দোকানিরা বেশি দাম চাচ্ছেন।    


ডেঙ্গু ওয়ার্ডে থাকা সুরভী ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত আমি এখনো হসপিটালে আছি। মাঝে  দুইদিন আইসিইউতে ছিলাম। ডাক্তারের চেষ্টায় আমি সুস্থ হয়ে উঠছি। প্রথমে আমাকে স্যালাইন দেওয়া হলেও পরে দেওয়া হয়নি। বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে। 


আরেক রোগী হাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার রাত একটার দিকে আমি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণ পর আমাকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। এখন শারীরিক অবস্থা একটু ভালো। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই জ্বর আসে। দুদিন খুবই জ্বর ছিল। তারপরে জ্বরটা কমে যায়। তারপরে টেস্ট করানোর পরে দেখা গেল যে পজিটিভ আসছে। ডাক্তারের পরামর্শে হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছি। 


চিকিৎসকরা বলছেন, প্রথমদিকে বেশিরভাগ রোগী ছিলেন ঢাকা থেকে আসা। এখন রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকেও ডেঙ্গু আক্রান্তরা আসছেন। রোগীর চাপ বাড়ায় এরই মধ্যে আরো একটি ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।    


রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, আমরা স্পেশাল কিছু স্যালাইন রোগীকে দিচ্ছি। কারণ এই স্যালাইনের দাম বেশি। মার্কেটে এই স্যালাইন হাজার টাকার বেশি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু সবার পক্ষে কেনা সম্ভব না। 


তিনি আরও বলেন, স্পেশাল এই স্যালাইনের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। এগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে হয়। তবে আশা করি এই সপ্তাহের মধ্যে স্যালাইন আসবে।