বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

চারঘাটে বাড়িতে তালা দেওয়ার অভিযোগ পুলিশ সার্জেন্টের বিরুদ্ধে, দুই মাস ধরে ঘরছাড়া শামীম

চারঘাট প্রতিনিধি ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চারঘাট প্রতিনিধি ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৭ অপরাহ্ন
চারঘাটে বাড়িতে তালা দেওয়ার অভিযোগ পুলিশ সার্জেন্টের বিরুদ্ধে, দুই মাস ধরে ঘরছাড়া শামীম

চারঘাটে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িতে তালা দিয়ে দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সার্জেন্টের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় দুই মাস ধরে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না সাইদুর রহমান শামীম (৫৫) নামে এক ব্যক্তি। বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।


অভিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্ট আসিফ আহমেদ রবিন বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে চারঘাট মডেল থানা, পৌরসভাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করেছেন শামীম। পরে বাধ্য হয়ে তিনি দুর্গাপুর উপজেলার পুরোনো বাড়িতে অবস্থান করছেন।


শামীমের অভিযোগ, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির কাছাকাছি হওয়ায় ওই ১২ শতক জমির বাজারমূল্য বেশি। এ কারণে সার্জেন্ট আসিফ আহমেদ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে ব্যবহার করে জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর পুলিশি প্রভাবের কারণে বিষয়টি সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁর।


থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে চারঘাট উপজেলার সরদহ বাজার এলাকায় বানেশ্বর-ঈশ্বরদী মহাসড়কের পাশে ১২ শতক জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন বোরহানুর রহমান আঙ্গুর। তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের কোনো সন্তান ছিল না। ২০২৫ সালে বোরহানুর রহমান মারা যাওয়ার পর মনোয়ারা বেগম তাঁর দেবর সাইদুর রহমান শামীমের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন।


শামীমের দাবি, স্বামীর রেখে যাওয়া জমির মধ্যে নিজের প্রাপ্য ৩ দশমিক ১৩ শতক জমি তাঁকে লিখে দেন মনোয়ারা বেগম। গত ২ এপ্রিল মনোয়ারা বেগম মারা যাওয়ার পর ভাইয়ের কাছ থেকে পাওয়া নিজের অংশ এবং ভাবির কাছ থেকে পাওয়া জমি তিনি বুঝে নেন।


তবে গত ২ আগস্ট ওই জমিতে থাকা আধাপাকা বাড়িতে তালা দেওয়া হয়। শামীমের অভিযোগ, মনোয়ারা বেগমের ভাই আজিজুল ইসলামের ছেলে সার্জেন্ট আসিফ আহমেদ রবিন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে তালা দেন।


এরপর জমির দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে চারঘাট মডেল থানা, চারঘাট পৌরসভাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন শামীম। গত ১৯ আগস্ট চারঘাট থানায় দুই পক্ষ ও স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে উভয় পক্ষকে জমির মালিকানার কাগজপত্র দেখাতে বলা হলে শামীম দলিল উপস্থাপন করেন। তবে ওই সময় আসিফ আহমেদ কোনো দলিল উপস্থাপন করতে পারেননি বলে জানান শামীম।


শামীমের ভাষ্য, তাঁর দলিল ভুয়া দাবি করে তা প্রমাণের জন্য সাত দিনের সময় চান আসিফ। পরে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একাধিকবার যোগাযোগ করলেও আসিফের পক্ষ থেকে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বাড়ির তালাও খোলা হয়নি। এরপর শামীম বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে আসিফের লোকজন তাঁকে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।


স্থানীয় সরদহ এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, মনোয়ারা বেগম জীবিত থাকা অবস্থায় তাঁর ভাই আজিজুল ইসলাম ও ভাইয়ের ছেলে আসিফ আহমেদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি সরদহ ছেড়ে দেবর শামীমের কাছে দুর্গাপুরে থাকতেন। সন্তান না থাকায় তিনি নিজের জমি শামীমকে দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানেন। তবে এখন ওই জমি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে।


ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান শামীম বলেন, ‘দুই মাস ধরে নিজের বাড়িতে যেতে পারছি না। বাড়িতে গেলেই আসিফ আহমেদের লোকজন আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আসিফ নিজেই বাড়িতে তালা দিয়েছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন। থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।’


তবে জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ সার্জেন্ট আসিফ আহমেদ রবিন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি বাড়িতে তালা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে বলেন, ‘আমি তালা লাগাইনি, অন্য লোকজন লাগিয়েছে।’


জমির মালিকানা দাবি করে আসিফ আহমেদ বলেন, ‘ফুফু মারা যাওয়ায় জমিটি এখন আমার।’ তাঁর দাবি, ফুফু শামীমের বাড়িতে থাকার সময় তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে জোর করে ভুয়া দলিল তৈরি করা হয়েছে।


চারঘাট মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম বলেন, জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সাত দিন পর দুই পক্ষকে নিয়ে আবার বসার কথা ছিল। কিন্তু পরে সার্জেন্ট আসিফ আহমেদের পক্ষের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে অভিযোগকারী সাইদুর রহমান শামীমকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।