বরেন্দ্রে জলবায়ু-সহনশীল আবাসনের দাবি
তীব্র তাপ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও পানির সংকটে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা বরেন্দ্র অঞ্চলের নিম্নআয়ের ও বস্তিবাসী মানুষের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। একই সঙ্গে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক নগরসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর নামোভদ্রা লেকপাড়ে আয়োজিত নীতি সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। নামোভদ্রা বাস্তুহারা সার্বিক উন্নয়ন সংগঠন, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
বক্তারা বলেন, নিরাপদ আবাসন শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়; এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জীবিকা ও সামাজিক সুরক্ষার অধিকারও যুক্ত। বরেন্দ্র অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, খরা ও পানির সংকট নিম্নআয়ের মানুষের জীবন ও আবাসন নিরাপত্তায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। অনানুষ্ঠানিক বসতিতে থাকা মানুষ উচ্ছেদ, অপর্যাপ্ত নগরসেবা ও দুর্যোগের তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ভদ্রা লেকপাড় বস্তিবাসী ও ভদ্রা বাস্তুহারা সার্বিক উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি বাচ্চু মিয়া বলেন, নদীভাঙনের কারণে তারা এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। শহরের বর্জ্য সংগ্রহ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ভূমিকা রাখলেও তাদের নিজেদের নিরাপদ থাকার জায়গা নেই।
বস্তিবাসী নিলুফা বেগম বলেন, তারা শহরের মানুষের বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকলেও সবসময় ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার আতঙ্কে থাকেন। নাগরিক হিসেবে তারা বাসস্থান, পানি, স্যানিটেশন ও সন্তানদের শিক্ষার অধিকার চান।
বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি বলেন, উন্নয়ন ও জলবায়ু অভিযোজনের নামে নিম্নআয়ের মানুষকে উচ্ছেদ না করে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। নগর পরিকল্পনায় জলবায়ু ঝুঁকি, আবাসন, নাগরিকসেবা, জীবিকা ও পরিবেশগত নিরাপত্তাকে সমন্বিত করার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
বারসিকের সহযোগী কর্মসূচি কর্মকর্তা অমিত সরকার বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের শ্রম শহরের বিভিন্ন সেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখে। তাই তাদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ার অন্যতম শর্ত।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান কমিউনিটি উন্নয়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান আজিজ বলেন, বাসযোগ্য নগর গড়তে নিরাপদ আবাসন, মৌলিক নাগরিকসেবা, সবুজায়ন ও জলবায়ু-সহনশীল নগর পরিকল্পনাকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।
নীতি সংলাপ থেকে বস্তিবাসী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ৯ দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন, স্বল্পমূল্যে জলবায়ু-সহনশীল আবাসন, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা, সবুজায়ন, নগর কৃষি, জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় নিম্নআয়ের মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।