বগুড়ায় জেলা প্রশাসনের পূজা প্রস্তুতি সভায় হট্টগোল
শারদীয় দুর্গাপূজার উপলক্ষে বগুড়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে একপর্যায়ে সভা থেকে বেরিয়ে যান জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশার অনুরোধে তারা আবার সভায় ফিরে আসেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। জেলার ১৩টি উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতিনিধি, পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
সভা শুরুর পর উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন পূজা উদ্যাপন কমিটির প্রতিনিধি তাদের এলাকার পূজা আয়োজন, নিরাপত্তা ও বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, পূর্বনির্ধারিত আরেকটি কর্মসূচি থাকায় সভার আলোচনা সংক্ষেপ করতে হবে।
এরপর রাজনৈতিক নেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হলে উপস্থিত পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পূজা কমিটির প্রতিনিধিদের অনেকেই নিজেদের এলাকার সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরার সুযোগ পাননি।
একপর্যায়ে জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাসসহ কয়েকজন নেতা সভা থেকে বেরিয়ে যান। এতে সভাস্থলে কিছু সময়ের জন্য হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
ধুনট উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ বিকাশ চন্দ্র সাহা বলেন, “আমি কিছুক্ষণ বক্তব্য দিয়েছি। আমার আগে আরও তিন-চারজন প্রতিনিধি কথা বলেছেন। এরপর আমাদের বক্তব্য সংক্ষেপ করার কথা জানানো হয়। এতে উপস্থিত অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন।”
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, “বছরে একটি দিন আমরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাই। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৩০-৩৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে প্রতিনিধিরা আসেন। তাদের নানা সমস্যা ও প্রত্যাশা থাকে। অথচ সেই সভাতেই কথা বলার সুযোগ না পেলে তাদের আসার উদ্দেশ্য কী?”
তিনি আরও বলেন, “জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, শিক্ষক দিবস উপলক্ষে তার আরেকটি কর্মসূচি রয়েছে। সময়ের সংকট থাকলে আমাদের অন্যদিন সভা করা যেত। জেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণেই আমরা সভায় এসেছি। সেখানে ডেকে এনে কথা বলার সুযোগ না দিলে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই আমাদের কষ্ট দিয়েছে।”
পরে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা তাদের সঙ্গে কথা বলে সভায় ফিরে আসার অনুরোধ করলে পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা আবার সভায় যোগ দেন।
সভায় হট্টগোলের বিষয়টি স্বীকার করে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, “পূজা উদ্যাপন কমিটির প্রতিনিধিদের বক্তব্য দেওয়ার নির্ধারিত পর্বে জেলা কমিটির নেতারা বক্তব্য দেননি। পরে সভার শেষ দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেওয়ার সময় তারা কেন তাদের বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে তারা মনঃক্ষুণ্ন হয়ে সভা থেকে বেরিয়ে যান। পরে তারা আবার সভায় ফিরে আসেন।”
সভা ঘিরে সৃষ্ট এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও বিভিন্ন এলাকার সমস্যাগুলো নিয়ে পূজা উদ্যাপন পরিষদের প্রতিনিধিদের আরও মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।