বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

সাংবাদিকদের দাবির মুখে হল প্রাধ্যক্ষকে অপসারণ

রাবি প্রতিবেদক, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
সাংবাদিকদের দাবির মুখে হল প্রাধ্যক্ষকে  অপসারণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে, অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের মধ্যে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


তদন্তে হামলার ঘটনায় দোষী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাঁদের নাম উল্লেখ করে মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে। এ ছাড়া হামলার পেছনে ইন্ধন ও উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।


সোমবার রাত ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বিক্ষোভকারীদের ছয় দফা দাবি নিয়ে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা চলে। পরে দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো জানান।


উপাচার্য বলেন, ‘আমরা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট পাবো—এটাই আশা। এরপর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী যে শাস্তির বিধান আছে, তা নিশ্চিত করা হবে। এরপর পরবর্তী তদন্তের জন্য সিন্ডিকেট সভা ডেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, সেটার ওপর আস্থা রাখুন।’


এর আগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করার প্রতিবাদে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা।


একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেন।


আলোচনা শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হল প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, তদন্তে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক বহিষ্কারসহ আইনগত ব্যবস্থা এবং হামলায় ইন্ধন ও উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।