বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

মাইকিং করেও মিলছে না শিক্ষার্থী, বন্ধ হচ্ছে ৮৬ পলিটেকনিক

সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৪৩ অপরাহ্ন শিক্ষা
সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৪৩ অপরাহ্ন
মাইকিং করেও মিলছে না শিক্ষার্থী, বন্ধ হচ্ছে ৮৬ পলিটেকনিক
বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংকট দেখা দিয়েছে/ছবি: এআই

বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংকট প্রকট। এ সংকট কাটাতে দফায় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। এমনকি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কারিগরি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তাতেও মিলছে না শিক্ষার্থী। অনেক কারিগরি প্রতিষ্ঠানই এখন শিক্ষার্থী শূন্য।



নানান পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টার পরও ভর্তি হতে আগ্রহী শিক্ষার্থী না পাওয়ায় বন্ধের মুখে পড়েছে ৮৬টি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানগুলো টানা তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ছাড়াই চলছে।


অবশেষে এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন ও স্বীকৃতি বাতিলের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। পলিটেকনিকগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ও ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান।


সোমবার (৫ অক্টোবর) ৮৬টি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদপত্র পাঠিয়েছে বোর্ড। তাতে আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে কেন তাদের পাঠদান অনুমোদন বা স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা হবে না, তার কারণ জানাতে বলা হয়।


এদিকে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান অনুমোদন চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক প্রকৌশলী বি এম আমিনুল ইসলামের সই করা তাগিদপত্রে বলা হয়েছে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালার ৪.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী- বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত অবকাঠামো, ফলাফল, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এসব শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল করার এখতিয়ার বোর্ডের রয়েছে।


চিঠিতে আরও বলা হয়, অনুমোদনের শর্তাবলিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, পরপর তিন বছর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন বাতিল করা হবে।


বোর্ডের চিঠিতে সংযুক্ত তালিকা অনুযায়ী- ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ৮৬টি বেসরকারি পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।


কারিগরি বোর্ড সূত্র জানায়, শিক্ষার্থী সংকটে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নীতিমালায় নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার বাড়াতে দেশব্যাপী প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেয় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। এর অংশ হিসেবে জেলা ও উপজেলাপর্যায়ের জনবহুল স্থান, হাট-বাজার ও পার্শ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ কার্যক্রমেও কারিগরি শিক্ষামুখী হচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।


কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা সচেতনতা বাড়াতে নির্দেশনা দিয়েছিলাম। অনেক এলাকায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে; লিফলেট বিলি করেছে; কিন্তু সাড়া মিলছে না। আমরা নতুন পরিকল্পনা করছি, কীভাবে আরও বেশি প্রচার-প্রচারণায় বিষয়টি আনা যায়, তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে।’


তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ