বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

বহুতল আবাসিক ভবনের ছাদে সুইমিংপুল, আরডিএ চেয়ারম্যানকে ‘খেয়ে ফেলার’ হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৬ অপরাহ্ন
বহুতল আবাসিক ভবনের ছাদে সুইমিংপুল, আরডিএ চেয়ারম্যানকে ‘খেয়ে ফেলার’ হুমকি

রাজশাহী মহানগরীতে বহুতল আবাসিক ভবনের ছাদে ছিল নিয়মবর্হিভুতভাবে করা হয়েছে সুইমিংপুল। এ খবরে অভিযান চালিয়েছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। অভিযানে বাধা দিয়ে ভবন মালিক বলেন, ‘সুইটকে খেয়ে ফেলবো’।    


মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন আরডিএর ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আব্দুর রশিদ। তার ভবনের নাম রাইশা টাওয়ার।


অভিযান চালাতে গেলে আরডিএর ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন ভবনের মালিক আব্দুর রশিদকে গেট খোলার জন্য বার বার অনুরোধ করেন। তিনি গেট না খুলে ভেঙে প্রবেশ করার কথা বলেন। আব্দুর রশিদ হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ভিতরে প্রবেশ করলে দুই চারটে খুন হলে সে দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে।’ 


এদিকে আব্দুর রশিদ কোনোভাবে গেট না খুললে ম্যাজিস্ট্রেট গেট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। তাঁর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও শ্রমিকরা ভবনটিতে প্রবেশ করেন। এতে গ্যারেজেই বাধার মুখে পড়েন ম্যাজিস্ট্রেট। আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটকে উদ্দেশ্যে করে আব্দুর রশিদ বলেন, ‘মরার জন্য টাইম নাই নাকি, সুইটকে খাবো, খাবো ওকে, সুইটকে খাবো। যান ভাঙেন আপনারা।’  


অভিযোগ রয়েছে, আব্দুর রশিদ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে অতীতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে আব্দুর রশিদ এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তার ভবনের দুটি ফ্ল্যাটে জামায়াতের দুই নেতার ভাই বসবাস করছেন বলেও দাবি করেন তারা।


এদিকে, অনুমোদনহীন সুইমিংপুল নির্মাণের বিষয়ে আরডিএর পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানা গেছে জানিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন। ভবনের অনুমোদিত নকশা ও নির্মিত স্থাপনার মধ্যে কোনো ধরনের ব্যত্যয় রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে রাত আটটা পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। 


এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ভবন মালিক আব্দুর রশিদ কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। 


আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এই ভবনের অবৈধ স্থাপনা তিনি উচ্ছেদ করতে আসি। এ সময়ে বাড়ির মালিক পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা করছিলেন না। আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রধান ফটক ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। এরপর ছাদে যেয়ে সুইমিংপুল দেখতে পান। সুইমিংপুল এর কোনো প্রকার অনুমোদন নাই। অতিরিক্ত পানির ওজনের কারণে আগামীতে অনেক ক্ষতি হবে। শুধু তাই নয়, পানির স্যাঁতসেঁতে ভাব হতে পারে। তাই আমরা সুইমিংপুলটি ভেঙে ফেলেছি।