দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন
সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার ও সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ সংগঠনের বিভিন্ন শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এবারের কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ছিল—‘সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধ কর, সকল নাগরিকের মানবাধিকার নিশ্চিত কর’।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি কল্পনা রায়। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক অঞ্জনা সরকার। কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক আলিমা খাতুন।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, পরিবর্তনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদ রিপন, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বিভাগীয় প্রধান অ্যাডভোকেট দিল সেতারা চুনি, বিইউপির নির্বাহী পরিচালক ফয়েজুল্লাহ চৌধুরী, রুলফাওয়ের নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন, আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি মনিরার রহমান মিঠি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোবাররা সিদ্দিকা, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস, রাজশাহী জেলা সভাপতি গণেশ মাঝি, সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ হেমব্রম এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার প্রশিক্ষণ সম্পাদক সেলিনা বানুসহ বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্ষণ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এসব ঘটনার কার্যকর প্রতিকার না হলে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তারা বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন নির্বিঘ্নে সার্বজনীন দুর্গোৎসবে অংশ নিতে পারেন, সে জন্য সরকার ও প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পূজামণ্ডপ, মন্দির ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল, নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েনের দাবি জানান তারা।
সভাপতির বক্তব্যে কল্পনা রায় বলেন, দুর্গোৎসবের আগে, চলাকালে ও পরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।