দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, নন্দনগাছী রেলস্টেশন সংস্কারের উদ্বোধন
দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রতীক্ষার পর রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী রেলওয়ে স্টেশনের সংস্কারকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় স্টেশন চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়।
নন্দনগাছী রেলস্টেশন সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চারঘাট-বাঘা আসনের সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আবু সাইদ চাঁদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নন্দনগাছী রেলস্টেশন এ অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটির অবকাঠামোগত সমস্যা ও যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি স্থানীয়রা তুলে আসছেন। সংস্কারকাজ শেষ হলে যাত্রীসেবার মান বাড়ার পাশাপাশি রেল যোগাযোগ আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
তিনি বলেন, “নন্দনগাছী রেলস্টেশনের উন্নয়ন শুধু একটি স্টেশনের উন্নয়ন নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বাস্তবায়ন। রেলসেবাকে আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নাজমুল হক, চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বিকুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান শাহিন, উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল কালাম আজাদ এবং রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাব্বির হোসেন মুকুট।
এ ছাড়া নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান, নিমপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মিজানুর রহমান, নন্দনগাছী বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নন্দনগাছী রেলস্টেশন নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। সংস্কারকাজ শেষ হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে এবং স্টেশনটির সেবার মান উন্নত হবে। এতে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৬ বছর পর গত ৫ অক্টোবর নন্দনগাছী রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর লুপ লাইনে প্রথমবারের মতো একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের যাত্রাবিরতি হয়। এর মধ্য দিয়ে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হয়। এবার স্টেশন সংস্কারের উদ্বোধনকে রেলসেবার উন্নয়নের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।