ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্পের বর্জ্যবাহী ট্রাক ছিনতাইয়ের অভিযোগ
পাবনার ঈশ্বরদীস্থ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বর্জ্য (ওয়েস্টেজ) ব্যবস্থাপনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বাংলা পাওয়ার কোম্পানি‘র মালবোঝাই একটি ট্রাক ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আজাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দাশুড়িয়া রেলগেট এলাকায় ছিনতাইয়ের এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আজাদুল ইসলাম পাকশী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এবং ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
বর্জ্যসহ ট্রাকটি ছিনতাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলা পাওয়ার কোম্পানিক স্বত্ত্বাধীকারী মো. সোহেল রানা। তিনি বলেছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আজাদুর আমার মাল বোঝাই ট্রাকসহ চালক ও সহকারীকে আটকে রেখেছেন। তবে ট্রাক ছিনতাইয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি আজাদুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বর্জ্য (ওয়েস্টেজ) ব্যবস্থাপনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বাংলা পাওয়ার কোম্পানি‘র মালবোঝাই একটি ট্রাক উপজেলার দাশুড়িয়া রেলগেট এলাকায় এলে ট্রাকটির গতিরোধ করেন কয়েকজন। এরপর ট্রাকে থাকা চালক ও তার সহযোগীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দোকান ঘরে বসিয়ে রাখেন আজাদুল ইসলামসহ তার সহযোগীরা। ওই সময় বাংলা পাওয়ার কোম্পানির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আটকের বিষয়টি জানান চালক ও আটক কারীরা।
এ বিষয়ে পাকশী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আজাদুল জানান, আমার চাচাতো ভাই মো. কামরুল হাসান এই বাংলা পাওয়ার কোম্পানির অংশীদার। অংশীদারিত্বের চুক্তিনামাও রয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে রানা ফকির ওরফে সোহেল রানা তাকে নানাভাবে বঞ্চিত করেছে। আমরা সেটারই সমাধানের উদ্দেশ্যে গাড়িটি কিছু সময়ের জন্য আটকে রেখেছিলাম। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন কথা বলেছেন। সমস্যা সমাধানের জন্য সময় লাগবে মর্মে আমরা তাৎক্ষণাৎ গাড়ি ছেড়ে দিয়েছি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বাংলা পাওয়ার এর মালিক সোহেল রানা ফকির জানান, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বিষয়টিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে গাড়ি নিয়ে যেতে বলেছেন।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ জানান, দাশুড়িয়া এলাকায় রূপপুর প্রকল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য অপসারণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একটি গাড়ি আটকে রাখার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। গাড়ির মালিকপক্ষ আমাদের ফোন করেছিলেন এবং তাদের সঙ্গেই আমার কথা হয়েছে। এটা মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক কোনো ঝামেলা। ওসির ভাষ্য, বর্তমানে গাড়িটি ঘটনাস্থলেই রয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা চলছে। মালিকপক্ষও সেখানে উপস্থিত আছেন। মালিকপক্ষ জানিয়েছে যে, এটি তাদের নিজেদের ব্যবসায়িক বিরোধ এবং তারা নিজেরাও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। যদি কোনো পুলিশি সহায়তার প্রয়োজন হয়, তবে তারা জানাবেন। এছাড়া পুলিশ টিমও ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।