বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

লাউ চাষে লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক

মো. মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৩৯ অপরাহ্ন কৃষি
মো. মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৩৯ অপরাহ্ন
লাউ চাষে লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক

পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৯নং মাগুরা ইউনিয়নের নয়নী বুরুজ রেলগেট এলাকায় এক বিঘা জমিতে লাউ চাষ করে উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক শান্ত। বাজারে লাউয়ের দাম কম থাকায় চলতি মৌসুমে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।


কৃষক শান্ত জানান, এক বিঘা জমিতে লাউ চাষ করতে এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮ ধাপে লাউ তুলে প্রায় ১০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। জমিতে এখনো আরও প্রায় ৮ ধাপে লাউ তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।


তবে বর্তমানে স্থানীয় বাজারে কৃষকের কাছ থেকে প্রতি পিস লাউ মাত্র ৭ থেকে ৮ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা একই লাউ খুচরা বাজারে প্রায় ২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এতে উৎপাদক কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।


কৃষক শান্তের হিসাব অনুযায়ী, পুরো মৌসুমে লাউ বিক্রি করে মোটামুটি ২০ হাজার টাকা আয় হতে পারে। অথচ উৎপাদনে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ফলে মৌসুম শেষে প্রায় ১০ হাজার টাকা লোকসান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


কৃষক শান্ত বলেন, “লাউয়ের বাজারদর ভালো থাকলে পরিশ্রম ও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কিছুটা লাভ করা সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে পাইকারি বাজারে দাম এত কম যে উৎপাদন খরচই ওঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”


স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হলে তারা চাষাবাদে আরও উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে বাজারব্যবস্থা আরও কার্যকর করার দাবি জানান তারা।


কৃষকদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

কৃষক শান্তর সাথে কথা বলে তিনি জানান, ৯নং মাগুড়া ইউনিয়নের নয়নি বুরুজ এলাকার উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কোনোদিন আমার লাউ ক্ষেতে এসে কোন প্রকার পরামর্শ প্রদান করেননি।


মো. আসাদুন্নবী সদর উপজেলা কৃষি অফিসার, পঞ্চগড় এর কাছে মুঠোফোনে তপন কুমার শর্মা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা নয়নি বুরুজ এলাকার কৃষক শান্তর লাউ ক্ষেতে কোন প্রকার পরামর্শ দেননি সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, দায়িত্বরত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা গত দুই মাস পূর্বে অবসরে গেছেন সে জায়গায় আমরা নতুন উপ-সহকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব প্রদান করেছি।