বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

শিক্ষককে মারধর : প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তারের দাবি

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন
শিক্ষককে মারধর : প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তারের দাবি

পাবনার ঈশ্বরদীতে আনিছুর রহমান নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্কুল চলাকালীন সময়ে ক্লাস ছেড়ে বিক্ষোভ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। 


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার নতুন রূপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে হামলার প্রতিবাদ জানান এবং শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি তোলেন।


বিক্ষোভে অভিযোগ করা হয়, গত ৪ অক্টোবর রাতে চররূপপুর বিবিসি বাজারের চেরু মার্কেটের সামনে পূর্ববিরোধের জেরে শিক্ষক আনিছুর রহমানের ওপর হামলা করে স্থানীয় হাসিবুল ইসলাম রঞ্জু বিশ্বাসের দুই ছেলে আশিকুর রহমান জ্যোতি বিশ্বাস ও তারিক হাসিব চন্দন বিশ্বাস। এ সময় তাঁকে মারধরের পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যাওয়া এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।


নতুন রূপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আরিফ হোসেন বলেন, শিক্ষক আনিছুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনাটি নিন্দনীয়। একজন শিক্ষক জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, ‘আমি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. আফরোজা বুলবুল বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনিছুর রহমানের ওপর হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর দাবি, হামলার ধরন দেখে তাঁদের মনে হয়েছে, শিক্ষককে হত্যার উদ্দেশ্যেও হামলা করা হয়ে থাকতে পারে। স্কুল চলাকালীন সময়ে শিশুদের ক্লাস ছেড়ে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী মিলে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান তিনি।


তবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয় চলাকালে এ ধরনের কর্মসূচির বিষয়ে ভিন্ন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার। তিনি বলেন, শিক্ষককে কখন ও কোথায় মারধর করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। তাঁর ভাষ্য, তিনি শুনেছেন শিক্ষককে রাতে মারধর করা হয়েছে। শাহীনা আক্তার বলেন, ‘যদি পূর্বশত্রুতার জেরে ব্যক্তিগত কারণে রাতে তাঁকে মারধর করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি শিক্ষা অফিসের বিষয় নয়। তবে স্কুল চলাকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অন্য কোনো কাজে যুক্ত হতে পারেন না।’


এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, শিক্ষক আনিছুর রহমানকে মারধরের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। মোবাইলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।