বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ, তত্ত্বাবধায়কসহ আক্রান্ত ১৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪১ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ, তত্ত্বাবধায়কসহ আক্রান্ত ১৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরাও। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ প্রায় ১৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক ও একজন সহকারী সার্জন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ, ১৭ জন নারী ও ৯ জন শিশু। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৫৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ছয়জনকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


বর্তমানে জেলা হাসপাতালে ৬২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ, ৩২ জন নারী ও ১১ জন শিশু। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৯২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে বহির্বিভাগে ১ হাজার ৫২০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে ১৩২ জনকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।


হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান জানান, গত রোববার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তিনি ঢাকায় নিজ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অর্থো-সার্জারি বিভাগের সহকারী সার্জন মো. ফজর আলী লালও আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া নার্সসহ আরও প্রায় ১৩ জন স্টাফ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।


ডা. মাহবুব হাসান বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনজন চিকিৎসককে জেলা হাসপাতালে সংযুক্ত করে পদায়ন করা হয়েছে।


এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পৌর এলাকায় মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ. কে. এম. শাহাব উদ্দীন। তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডকে আট ভাগে ভাগ করে পৃথক টিমের মাধ্যমে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়ির মালিককে জরিমানাও করা হয়েছে। কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।