শরতের বৃষ্টিতে ডুবল নগর
ঘণ্টাখানেক বৃষ্টি হলে রাজশাহী নগরীর সড়কগুলোতে জমে যায় হাঁটু সমান পানি। মাঝারি বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় পথঘাট-অলিগলি। যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। বাড়ে জনভোগান্তি। সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক দুর্বিষহ পরিস্থিতি। এবার শরতের বৃষ্টিতেও ডুবছে সড়ক।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর সোয়া একটায় শুরু হয় এই বৃষ্টি। শেষ হয়। তিনটার দিকে। টানা পৌনে দুই ঘণ্টা মুষলধারে চলে এই বৃষ্টি। তবে আবহাওয়া অফিস এই সময়ে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না।
নগরবাসীর অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে একটু ভারি বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হয়। সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে। তখন ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেকে দুর্ঘটনার মুখেও পড়েন। এবার শরতের বৃষ্টিতেও বিভিন্ন এলাকায় পানি জমছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টরা জানান, নগরে জলাবদ্ধতা নিরসনে তারা কয়েক মাস থেকে কাজ শুরু করেছেন। এখনো সম্ভাব্য জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলোর ড্রেন, নালা, খাল পরিষ্কারে কাজ চলছে। যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা বেশি হয়, তা সমাধানের চেষ্টা চলছে। কিন্তু নাগরিক অসচেতনতায় করপোরেশনের কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না। ড্রেন, নালায় প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনসহ ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পানি যথাসময়ে অপসারণ হতে পারছে না বলে মনে করছে সিটি করপোরেশন।
বৃহস্পতিবারের এই বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরীর অনেক সড়ক। চিরচেনা সড়কের বাইরে এবার অনেক সড়কই ডুবেছে। এর মধ্যে বর্ণালী, লক্ষীপুর, উপশহর, সাহেববাজার, গণকপাড়া, বোয়ালিয়া থানার মোড়ে একটু বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। কিন্তু এবারের বৃষ্টিতে নগরীর রাণীনগর, টিকাপাড়া, সাগরপাড়া, মোন্নাফের মোড়, বালিয়াপুকুর, দেবীশিংপাড়া, ভদ্রা, শিরোইল কলোনী, আসাম কলোনী, শালবাগান, ছোটবনগ্রামসহ বিভিন্ন স্থান ডুবেছে।
নগরীর বালিয়াপুকুর এলাকার বাসিন্দা আবির হোসেন বলেন, গেল কয়েক বছর বালিয়াপুকুরে তেমন কোথায়ও পানি জমেনি। কিন্তু এবার প্রধান সড়কসহ আশপাশের অলিগলিতে হাঁটুপানি জমছে। পানি নামতে ২-৩ ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। সিটি করপোরেশন কাজও করছে। কিন্তু এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
একটু বৃষ্টি হলেই নগরীর জিরোপয়েন্টে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। খায়রুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, জিরোপয়েন্টে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে। ভারি বৃষ্টি হলে কোমর সমান পানি জমে। রাস্তার চেয়ে কাপড়পট্টির মার্কেটের ভেতরের জায়গা নিচু। ফলে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে মার্কেটে ঢোকে। এতে মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এদিকে সিটি করপোরেশনের নজর দেওয়া উচিত।
উপশহরের বাসিন্দা মাকসুদ হোসেন বলেন, আগে বৃষ্টি হলে বাসা থেকে ছাতা নিয়ে বের হতাম। এখন বৃষ্টি হলে ভাবি, জলাবদ্ধ এলাকা পার হবো কী করে। অর্থাৎ, সড়কে জলাবদ্ধতা এতটাই বেশি, নৌকা চলাচল করতে পারবে। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমানোর দায়িত্ব করপোরেশনের। কিন্তু তাদের কোনো উদ্যোগই নেই।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের আগে শুরুতে নগরীর ড্রেন ও খাল নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। এ কারণে ভারি বৃষ্টির পরও নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি কম সময়ের মধ্যে নেমে যায়। সবসময়ে ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। রাসিক প্রশাসক মহোদয় নিজেই তদারকি করেন। তবে আমাদের আরও বেশি সচেতন হবে হতে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, আগামী দুয়েক দিন আরও বৃষ্টি হবে। এ সময়ে আকাশে বৃষ্টিও থাকবে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে।