বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

মানবিকতার বন্ধনে বিয়ে, জন্মদাতা না হয়েও ২৪ বছরে ১১৩ জন মেয়েদের বাবা রুবেল

নাটোর প্রতিনিধি ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নাটোর প্রতিনিধি ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৮ অপরাহ্ন
মানবিকতার বন্ধনে বিয়ে, জন্মদাতা না হয়েও ২৪ বছরে ১১৩ জন মেয়েদের বাবা রুবেল

অভাবের সংসারে মেয়ের বিয়ে মানেই দুশ্চিন্তা। দিন এনে দিন খাওয়া বাবার পক্ষে বিয়ের খরচ জোগাড় করা যখন কঠিন, তখন সেই পরিবারের পাশে দাঁড়ান একজন মানবিক মানুষ। জন্মদাতা না হয়েও নিজের মেয়ের মতো দায়িত্ব নিয়ে হয়েছেন ১১৩জন মেয়েদের বাবা।  বিয়ের আয়োজন ও যাবতীয় খরজ করেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রুবেল। এবার তাঁর সহযোগিতায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের আফসানা মিমের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে গত ২৪ বছরে ১১৩ জন অসহায়, হতদরিদ্র ও এতিম মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব পালন করলেন তিনি।


যানা যয় ২০ বছর বয়সী আফসানা মিমের বাবা আফছার আলী পেশায় ভ্যানচালক। সীমিত আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া এই বাবার জন্য মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড় করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্যের অভাবে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। এমন সময় এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে রুবেলের মানবিক উদ্যোগের কথা জানতে পারেন। পরে যোগাযোগ করা হলে এগিয়ে আসেন রুবেল। গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে বিয়ের যাবতীয় আয়োজনের দায়িত্ব নেন তিনি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরের পর নাটোর সদর উপজেলার সবুজ মণ্ডলের ছেলে কাউছার মণ্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয় আফসানা মিমের। রুবেলের উদ্যোগে দরিদ্র পরিবারটিতে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ।


মেয়ের বিয়েতে সহযোগিতা পেয়ে আবেগাপ্লুত আফছার আলী বলেন, “আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে দিন পার করতে হয়। মেয়ের বিয়ের খরচ কীভাবে জোগাড় করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। রুবেল ভাই যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমার অনেক বড় চিন্তা দূর হয়েছে। তাঁর সহযোগিতা না পেলে এত সুন্দরভাবে মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা আমার পক্ষে কঠিন হতো।”


নতুন জীবনের শুরুতে কনে আফসানা মিম বলেন, “আমার বিয়েতে রুহুল আমিন রুবেল যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এমন সুন্দর আয়োজন হবে, তা ভাবিনি। তাঁর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। সবাই আমাদের নতুন জীবনের জন্য দোয়া করবেন।”


বর কাউছার মণ্ডল বলেন, “বিয়ের আয়োজন দেখে আমরা খুবই আনন্দিত ও বিস্মিত হয়েছি। একজন মানুষ অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে এত বড় দায়িত্ব নিয়েছেন, এটা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা সবার দোয়া নিয়ে সুখে-শান্তিতে সংসার করতে চাই।”


স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও বাসিন্দারা রুবেলের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, সমাজের অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো সামর্থ্যবান মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। রুবেলের মতো অন্যরাও এগিয়ে এলে অভাবের কারণে অনেক পরিবারের আনন্দ ম্লান হবে না। তাঁর এই উদ্যোগ সমাজে মানবিকতা ও সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


রুহুল আমিন রুবেল বলেন, “অসহায় মেয়েদের বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পেছনে আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। পরকালের কথা চিন্তা করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। একটি অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে ভালো লাগে। দেশের যেকোনো প্রান্তে প্রকৃত অসহায় পরিবারের খোঁজ পেলে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।”


২৪ বছর ধরে চলা রুবেলের এই উদ্যোগে যুক্ত হলো আরও একটি পরিবারের আনন্দের গল্প। আফসানা মিমের বিয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর সহযোগিতায় নতুন জীবন শুরু করলেন ১১৩ জন অসহায় পরিবারের মেয়ে। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ প্রমাণ করে, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সদিচ্ছা থাকলে একজন ব্যক্তিও বহু পরিবারের দুশ্চিন্তা দূর করে আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করতে পারেন।