বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক টেনিসে টুর্নামেন্ট রেফারি জয় মুখার্জী

‘ভালো টেনিস খেলোয়াড় গড়তে সারা বছর প্রতিযোগিতা দরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৮ অপরাহ্ন
‘ভালো টেনিস খেলোয়াড় গড়তে সারা বছর প্রতিযোগিতা দরকার’

বাংলাদেশের টেনিসে প্রতিযোগিতামূলক খেলোয়াড় গড়ে তুলতে নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ভারতের টেনিস রেফারি জয় মুখার্জী। তিনি বলেন, বছরে এক-দুটি টুর্নামেন্ট খেলে ভালো খেলোয়াড় হওয়া যায় না। খেলোয়াড়দের নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে হবে। এ জন্য জাতীয় পর্যায়ে সারা বছরের টুর্নামেন্ট সূচি তৈরি করা প্রয়োজন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীতে চলমান আন্তর্জাতিক জুনিয়র টেনিস প্রতিযোগিতা চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন জয় মুখার্জী।


তিনি ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে টেনিস প্রতিযোগিতায় রেফারির দায়িত্ব পালন করছেন। এ বছর তাঁর রাজশাহীতে দশম আসরে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করছেন। এ উপলক্ষে জাঁকজমকভাবে কেক কেটে তা উদযাপনও করা হয়েছে। জয় মুখার্জী বলেন, ২০১২-১৩ সালের তুলনায় বাংলাদেশের মেয়েদের টেনিসে উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে টুর্নামেন্টের সংখ্যাও বেড়েছে। বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের বর্তমান ব্যবস্থাপনার উদ্যোগে এ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। তবে খেলোয়াড়দের আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হবে। প্রতি মাসে, এমনকি প্রতি সপ্তাহে খেলার সুযোগ থাকলে খেলোয়াড়দের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বাড়বে। প্রতিযোগিতার পরিবেশ সম্পর্কে তাঁদের ধারণাও তৈরি হবে।


কলকাতায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা জয় মুখার্জীর টেনিসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার শুরু শৈশবে। ১৯৮৩ সালে আট বছর বয়সে বাবা-মায়ের উদ্যোগে কলকাতার একটি ক্লাবে টেনিস শেখা শুরু করেন তিনি। ক্লাবের বড় টুর্নামেন্টে পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের নামী খেলোয়াড়দের খেলা দেখে অনুপ্রাণিত হতেন। পরে টেলিভিশনে উইম্বলডন, ইউএস ওপেনসহ গ্র্যান্ড স্লাম প্রতিযোগিতা দেখে টেনিসের প্রতি তাঁর আগ্রহ আরও বাড়ে। খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ১৯৯৭ সালে কোমরে চোট পাওয়ার পর আগের মতো খেলায় ফিরতে পারেননি তিনি। এরপর টেনিসের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য রেফারিং ও কোচিংয়ের দিকে মনোযোগ দেন।


১৯৯৯ সালে জাতীয় পর্যায়ের আম্পায়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ২০০৬ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের (আইটিএফ) হোয়াইট ব্যাজ রেফারি কোর্স পাস করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম আইটিএফ হোয়াইট ব্যাজ রেফারি। রেফারিংয়ের জন্য শুধু নিয়মকানুন জানা যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন জয় মুখার্জী। তিনি বলেন, ম্যাচের অভিজ্ঞতা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও যোগাযোগের দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেন। ২০০১ সালে কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধিত হন। টেনিসের নিয়মকানুন নিয়ে কাজ করতে আইনের জ্ঞান তাঁকে সহায়তা করে।


দীর্ঘ কর্মজীবনে বিশ্ব ডাবলস চ্যাম্পিয়নশিপ, এটিপি, ডব্লিউটিএ, এশিয়ান হপম্যান কাপ, ফেড কাপ ও ডেভিস কাপের মতো প্রতিযোগিতায় আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ভারতের জাতীয় গেমসে প্রধান রেফারি ছিলেন। ভুটানে ভারত-ভুটান ফ্রেন্ডশিপ টাইয়েও প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন।


রাজশাহীর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে জয় মুখার্জী বলেন, এই শহরে এটি তাঁর দশমবারের মতো আসা। রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। কলকাতায় গেলে এখানকার পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, আবার রাজশাহীতে এলে তিনি আন্তরিক আতিথেয়তা পান। এ কারণে এখানকার টুর্নামেন্টকে নিজের দেশের বাইরের কোনো আয়োজন বলে মনে হয় না তাঁর।


এবারের রাজশাহী প্রতিযোগিতাটি তাঁর ক্যারিয়ারের ২১৬তম টুর্নামেন্ট বলে জানান জয় মুখার্জী। এর আগে এশীয়, আইটিএফ ও জাতীয় পর্যায়ের ২১৫টি টুর্নামেন্টে প্রধান রেফারি বা টুর্নামেন্ট রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের স্মরণীয় একটি ঘটনার কথা জানিয়ে জয় মুখার্জী বলেন, ১৯৯৭ সালে চেন্নাইয়ে এটিপি টুর্নামেন্টে লাইন আম্পায়ার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। তখন কোমরে চোট থাকলেও টুর্নামেন্টটি মিস করতে চাননি। কোমরে বেল্ট পরে দায়িত্ব পালন করেন। ম্যাচের পর চিকিৎসা নিতে গিয়ে পাশের বিছানায় অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন প্যাট ক্যাশকে দেখতে পান। টেলিভিশনে যাঁকে খেলতে দেখেছেন, তাঁর পাশে বসে চিকিৎসা নেওয়া ও কথা বলার অভিজ্ঞতাটি আজও তাঁর কাছে বিশেষ স্মৃতি। জয় মুখার্জী বলেন, টেনিস তাঁর কাছে শুধু পেশা নয়, বড় ধরনের ভালোবাসার জায়গা। এখনো নিয়মিত ফিটনেস চর্চা করেন, নিজের ক্লাবে খেলেন এবং উঠতি খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটান। সুযোগ পেলে তাঁদের টেনিসের বিভিন্ন দিক নিয়ে পরামর্শও দেন।