বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

অসুস্থ বাবাকে ‘মানসিক রোগী’ সাজানোর অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

জমি বিক্রিতে বাধা ও নির্যাতনের অভিযোগ, অস্বীকার ছেলের
শিবগঞ্জ প্রতিনিধি ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
শিবগঞ্জ প্রতিনিধি ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১০ অপরাহ্ন
অসুস্থ বাবাকে ‘মানসিক রোগী’ সাজানোর অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও দেখাশোনা না করে তাঁকে মানসিক রোগী হিসেবে উপস্থাপন এবং চিকিৎসকের সনদ ব্যবহার করে জমি বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একমাত্র ছেলের বিরুদ্ধে। ছেলের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগও করেছেন বাবা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ছেলের দাবি, চিকিৎসকের দেওয়া সনদটি ছিল যৌক্তিক। তাঁর দুই বোন ও ভগ্নিপতিরা বাবার কাছ থেকে ১৫ বিঘা জমি নিজেদের নামে লিখে নিয়েছেন বলেও পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।


শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের কর্ণখালী মিজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহা. আফজাল হোসেন বিশ্বাস। এ সময় তাঁর স্ত্রী রুমালী বেগম ও দুই মেয়ে রেহেনা পারভিন পপি এবং মাহমুদা খাতুন লিপি উপস্থিত ছিলেন।


লিখিত বক্তব্যে আফজাল হোসেন বলেন, প্রায় ১৮ মাস আগে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। একই সময়ে তাঁর স্ত্রী রুমালী বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হলে দুই জামাতা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাঁর অস্ত্রোপচারের সময় স্ত্রী ছেলের বাসায় গেলে ছেলে আসাদুজ্জামান টুনু ও তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।


আফজালের দাবি, সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ছেলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। এতে পারিবারিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। ছয় মাস আগে দ্বিতীয়বার ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে ছেলে চিকিৎসার খরচ না দিয়ে উল্টো জমি বিক্রিতে বাধা দেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে মানসিক রোগী হিসেবে উল্লেখ করে চিকিৎসকের কাছ থেকে নেওয়া একটি সনদ সাব-রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। এর ফলে তিনি জমি বিক্রি করতে পারছেন না।


আফজাল হোসেন বলেন, “আমি ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেও মানসিকভাবে সুস্থ। স্বাভাবিকভাবেই কথা বলতে পারি। আমাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করতে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করা হচ্ছে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে, তাঁর স্ত্রী ও দুই জামাতাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ছেলের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।


এ বিষয়ে সনদে স্বাক্ষরকারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুব হোসেন বলেন, ওই ব্যক্তি যখন চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন, তখন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত থাকায় মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন—এ মর্মে সনদ দেওয়া হয়েছিল। এখন তিনি সুস্থ হয়ে থাকলে সার্টিফায়েড কপি দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ছেলে আসাদুজ্জামান টুনু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি বাবাকে মানসিক রোগী বানাইনি। ওই সময় চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই যৌক্তিক একটি সনদ দিয়েছিলেন।”


আসাদুজ্জামানের পাল্টা অভিযোগ, তাঁর দুই বোন ও দুই ভগ্নিপতি যোগসাজশ করে তাঁকে বঞ্চিত করতে সম্প্রতি বাবার কাছ থেকে ১৫ বিঘা জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অবশিষ্ট সম্পত্তি নেওয়ার জন্য তাঁরা নানা কৌশল করছেন বলে অভিযোগ করেন আসাদুজ্জামান।


তিনি আরও বলেন, বাবার সেবা ও দেখাশোনা করতে তিনি প্রস্তুত। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সত্য নয়।


পারিবারিক বিরোধ, চিকিৎসকের সনদ এবং জমির মালিকানা নিয়ে বাবা-ছেলের পরস্পরবিরোধী অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।