বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

ডিমেও নেই স্বস্তি, উচ্চমূল্যে মাছ-মাংসের

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ন
ডিমেও নেই স্বস্তি, উচ্চমূল্যে মাছ-মাংসের

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠেনি খুচচা মাছমাংস ও ডিম বিক্রেতারা। অনেক ভোক্তাই আমিষ পেতে ডিমের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। প্রতিহালি ডিম বিক্রি হচ্ছ ৫০ থেকে ৫৪ টাকায়। অথচ গেল বছরের এই সময়ে ডিমের হালি ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে। উৎপাদন বাড়লেও বর্তমানে ক্রেতাদের বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে।


শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার, শালবাগান, ভদ্রা ও সাগরপাড়া ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে বিভিন্ন সবজিও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। এছাড়াও বাজারে দেখা মিলছে শীতের সবজিরও। তাও দাম বেশি। 


এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় অন্য নিত্যপণ্যের দামও উচ্চমূল্যে স্থির হয়ে গেছে। সব জিনিস চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতারা আগের তুলনায় কম কিনছেন। বাজারে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি চড়া দামে বিক্রি হয়। এতে ক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে।


আগের সপ্তাহের মতো শুক্রবারও ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০-২০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩১০-৩৪০, দেশি মুরগি ৬৩০-৬৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। গরুর মাংস ৭৮০-৮০০ টাকা কেজি, খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়।


নগরীর ভদ্রা বাজারের শাকিল বলেন, আগে দাম ওঠানামা করলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর মুরগির বাজার চড়ে গেছে। আর কমছে না। দাম বেশি হওয়ায় বিক্রিও কমে গেছে। ক্রেতারা কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে আমাদের লাভ কমে যাচ্ছে। আগে শুক্রবারে ১০০ টার বেশি মুরগি বিক্রি করলেও তা ৫০টাতে নেমে এসেছে। 


ইলিশ মাছ ধরা ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা চলছে। তাই বাজারে ইলিশ নেই। বিক্রেতারাও নেই। তবে অন্য মাছ চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। পাঙাশ ২৮০-৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৮০-৩২০ টাকার কমে পাওয়া যায় না। এ ছাড়া রুই, কাতলের কেজি ৩৬০-৫৫০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০-৯০০, পাবদা ৪০০-৬০০, চিংড়ি মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।  


বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো জিনিসের দাম কমেনি। বরং বেগুনের দাম কিছুটা বেড়েছে। বাজারে ৮০-১০০ টাকা, কাঁচামরিচ মানভেদে ১০০-১৪০ টাকা, গাজর ১৪০, শিম ১২০, শসা ৫০-১০০, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়াও ফুলকপি ৫০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা, কাঁচাকলা ২৫ থেকে ৩০ টাকা হালি, লেবু মানভেদে ২০ থেকে ৪০ টাকা হালি, লাউ প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০, কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা,  করলা ৮০-১০০ টাকা, মুলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, 


আগের মতোই মানভেদে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি, আলু ২৫-৪০ টাকা, রসুন ১৫০-১৮০, আদা ১৪০-১৭০, চিনি ১১৫-১২০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকা লিটার, পাম অয়েল ১৮৬ টাকা কেজি। বড় দানার মসুর ডাল ৮২ টাকা কেজি, মাঝারি দানার ডাল ১৩৫ ও ছোট দানার মসুর ডাল ১৫৫, অ্যাংকর ডাল ৬০, ছোলা ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি কেজি সরু (মিনিকেট) চাল ৭৫-৮৫ টাকা, মাঝারি চাল ৫৫-৬০, মোটা চাল ৫০-৫২ ও খোলা পোলাওয়ের চাল ১৮০-২০০ এবং প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


তবে অনেক বাজারে সয়াবিন তেল ও চিনির সরবরাহ কমে গেছে। আগের মতো সব দোকানে পাওয়া যায় না। সাহেববাজারের মুদি দোকানি মাসুদ বলেন, আমরা চুনোপুঁটি। যে দামে কিনি কিছু লাভ করে বিক্রি করি। মিলমালিকরা দাম বাড়ার জন্য হয়তো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এ জন্য আমরা আগের তুলনায় চিনি ও সয়াবিন তেল কম পাচ্ছি। দাম বাড়ায় বেচাকেনা আগের তুলনায় কমে গেছে।