বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন, বিদ্যুৎ মিলবে কবে

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৮ অপরাহ্ন
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন, বিদ্যুৎ মিলবে কবে

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। 


রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিকেল ৩টায় ৩৪ মিনিটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত সব প্যারামিটার চাহিদা অনুযায়ী মাত্রায় আছে। বিকিরণের মাত্রা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।


এর আগে, গত বৃহস্পতিবার দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। এই কেন্দ্রের চুল্লির মডেল তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর ১২০০ মডেলের, যেখানে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন তারা।


আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা আইএইএ’র গাইডলাইন অনুযায়ী, রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের স্টেজ ‘বি ওয়ান’ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে।


সর্বশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও কেটে গেছে। এর পরের ধাপ ‘বি টু’। এই ধাপে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এরপরই শুরু হয় ক্রিটিক্যালিটি। এটি এমন একটি পর্যায়, যেখানে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এখানে ধাপে ধাপে সফলভাবে এগিয়ে ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত এলে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।


প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, শুরুতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষমতায় চালানো হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নেওয়া হবে। সব পরীক্ষা সন্তোষজনক হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরও প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস পরীক্ষামূলকভাবে কেন্দ্রটি চালানো হতে পারে। সব পরীক্ষা শেষ হলে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যাবে প্রথম ইউনিট। ডিসেম্বরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার পরও কয়েক মাস পরীক্ষামূলক উৎপাদন ও বিভিন্ন ধাপে সক্ষমতা যাচাই করা হবে। তার ভাষ্য রূপপুর প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।