বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

‘নাচোলে ইলা মিত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩১ অপরাহ্ন
‘নাচোলে ইলা মিত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই’
ইলা মিত্র সাংস্কৃতিক মেলায় বক্তারা

ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা, সাঁওতাল ও শোষিত কৃষকদের ‘রাণীমা’ ইলা মিত্রের নামে নাচোলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানানো হয়েছে। ইলা মিত্রের  ১০১ তম জন্মবার্ষিকী ও ২৪ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক ‘ইলা মিত্র মেলা’।


রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে নাচোল উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে ইলা মিত্র মেলা জাতীয় কমিটির আয়োজনে এই মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। আগামী ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে মেলা চলবে।


মেলার প্রথম দিনে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়ে বিপ্লবী ইলা মিত্রের স্মৃতি ও সংগ্রামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বক্তারা নাচোলে ইলা মিত্রের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। 


বক্তারা বলেন, ইলা মিত্র দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে আন্দোলন করেছিলেন, তা ছিল গৌরবজনক। একইসঙ্গে এই কারণে তিনি নারকীয় নির্যাতন সহ্য করেছেন। তিনি পুরুষতান্ত্রিক ও সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তরুণ প্রজন্ম অনেক সময় মনে করে, অতীতে কেউ কিছু করেনি। নিজেদের বড় করে দেখার প্রবণতা তারুণ্যের মধ্যে থাকে। সে কারণে তাদের সামনে অতীতের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোকে সামনে নিয়ে আসা প্রয়োজন। গণঅভ্যুত্থানের পর বৈষম্যহীন রাজনৈতিক পরিবেশের যে প্রত্যাশা ছিল, তা যেন এখন আটকে যাচ্ছে।


বক্তারা আরও বলেন, শতাব্দীর বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে জন্ম নেন ইলা মিত্ররা। সামাজিক অন্যায়, নিপীড়ন ও অধিকার প্রশ্নে সোচ্চার এমন কীর্তিমানের জীবন আলাপ বারবার হওয়া জরুরি। বিশেষ করে ইলা মিত্র কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সাহসিকতার যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তেভাগা আন্দোলনের ইতিহাস ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই ইলা মিত্রও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।


তারা আরও বলেন, এখনো বাংলার কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্যের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছেন। রাজশাহী অঞ্চললে সাঁওতালরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ইলা মিত্রের সংগ্রাম আজও প্রাসঙ্গিক। ইলা মিত্র শুধু কমিউনিস্ট আন্দোলন বা কৃষক আন্দোলনই করেননি, তিনি নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যও আন্দোলন করেছেন। মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি করেছিলেন। এক শতাব্দী পেরিয়ে এসেও এখনো আমরা নারীর সুরক্ষার কথা বলছি, কৃষকের অধিকারের কথা বলছি। এখনো তিনি প্রেরণার উৎস।


মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেন  ইলা মিত্র মেলা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। এছাড়াও বক্তব্য দেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগিব আহসান মুন্না, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত পরিচালক ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ড, নাচোল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম, রাজশাহী জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি জুলফিকার আহমেদ গোলাপ প্রমুখ। 


উল্লেখ্য, বিপ্লবী ইলা মিত্র ১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০২ সালের ১৩ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলায়। কমিউনিস্ট নেতা কমরেড রমেন মিত্রের সাথে বৈবাহিক সূত্রে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তেভাগা আন্দোলন ও কৃষকদের অধিকার আদায়ের আপসহীন লড়াকু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও সাঁওতাল সম্প্রদায়ের কাছে পরম শ্রদ্ধার ‘রাণীমা’ হয়ে ওঠেন।