রাবিতে যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যা বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ‘সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যার প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। রেণু স্মৃতি ট্রাস্টের সহযোগিতায় রাবি দর্শন বিভাগ এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯:৩০ মিনিটে সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ, কলা অনুষদের অধিকর্তা প্রফেসর মোহাম্মদ বেলাল হোসেন ও বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও ধর্ম বিভাগের প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম। দর্শন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মো. আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেমিনার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর শামীমা আক্তার।
অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের প্রতিটি কাজকর্মে যুক্তি ও নীতির বিষয়টি নিহিত আছে। দর্শনের এই দুটি স্তম্ভ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের এই যুগে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, বাংলাদেশে খাদ্য ও শাকসবজি উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিবিড় কৃষিপদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি-রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতাও বেড়েছে, যা এগুলোর অত্যধিক ও অনুপযুক্ত ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এক্ষেত্রে যুক্তি ও নীতি-নৈতিকতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার সময় হয়েছে। আমাদের দেখতে হবে কতটা উৎপাদন প্রয়োজন, সেজন্য কি যুক্তি আছে। পাশাপাশি এটাও বিবেচনা করতে হবে যে এই উৎপাদনের জন্য কী নীতি অনুসরণ করতে হবে, সে জন্য আমাদের নৈতিক দায়বদ্ধতা কতটুকু। বিষয়টিকে দর্শনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করতে গেলে আমাদের কৃষিতে নীতি ও যুক্তি দুটি বিষয়ই বিশেষভাবে গুরুত্ববহ।
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সকল ক্ষেত্রেই যুক্তি ও নীতি বিশেষভাবে প্রয়োজন। আজকের বিশ্বে যেকোনো বিষয়ে যুক্তিযুক্ত চিন্তাভাবনা বিশেষ প্রয়োজন আছে। যুক্তিবিদ্যা মানুষকে বাস্তবতা বিচার করতে ও প্রশ্ন করতে শেখায়, সত্যতা যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। পাশাপাশি যুক্তি যদি হয় জ্ঞান তবে নীতিবিদ্যা হলো সেই জ্ঞানের প্রয়োগের বিষয়।
বিজ্ঞান আমাদের শেখাচ্ছে কিভাবে একটি কাজ করা যায়। কিন্তু নীতিবিদ্যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় কাজটি করা আমাদের প্রয়োজন কিনা? বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আজ নীতিবিদ্যার গুরুত্ব অসীম। নতুন নতুন আবিস্কারের যুগে উদ্ভাবন যদি হয় যুক্তিজাত তবে উদ্ভাবনের ব্যবহার বা প্রয়োগ নির্ধারণ করতে পারে নীতি। গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য আমরা যেমন যুক্তি তাড়িত হই, তবে সেই উদ্ভাবনকে আমরা কিভাবে ব্যবহার করবো, কতটা ব্যবহার করবো এই বিবেচনাটা নীতি-নৈতিকতার বিষয়। গবেষণা ও উদ্ভাবন যেমন সুবিধা বা কল্যাণের চিন্তায় করা হয়, তেমনি সেই উদ্ভাবনের ব্যবহার বা প্রয়োগ অবশ্যই নৈতিকতা নির্দেশিত হতে হয়, তবেই তা সফল হয়।
বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে প্রায় সকল ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতে দর্শন বিভাগের কোর্স-কারিকুলাম যুগোপযোগী করার প্রতিও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এই সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধসমূহ থেকে আধুনিক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যার প্রয়োজনীয়তা ও প্রয়োগ সম্পর্কে দিক-নির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দিনব্যাপী এই সেমিনারে সকাল ১০:৩০ মিনিট থেকে প্রথম অধিবেশনে ‘সমকালীন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তিবিদ্যার প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক বিষয়ে ৮টি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রফেসর মোস্তফা নাজমুল মানছুর।
বেলা ২:৩০ মিনিট থেকে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘সমকালীন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নীতিবিদ্যার প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক বিষয়ে ৪টি প্রবন্ধ এবং বেলা ৩:৩০ মিনিট থেকে তৃতীয় অধিবেশনে ‘সমকালীন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নীতিবিদ্যার প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক বিষয়ে ৪টি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। অধিবেশন দুটিতে যথাক্রমে বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও ধর্ম বিভাগের প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম এবং রাবি দর্শন বিভাগের প্রফেসর মো. জাহাঙ্গীর আলম সভাপতিত্ব করেন।