বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

বাঘায় খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি, গাছিদের ব্যস্ততা শুরু

আমানুল হক আমান, বাঘা ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
আমানুল হক আমান, বাঘা ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৬ অপরাহ্ন
বাঘায় খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি, গাছিদের ব্যস্ততা শুরু

শীত আসতে এখনো কিছু সময় বাকি। এরই মধ্যে রাজশাহীর বাঘায় শুরু হয়েছে আগাম খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। খেজুরগাছের ডালপালা পরিষ্কার করে রস আহরণের উপযোগী করছেন গাছিরা। কয়েক দিন পরই গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির মৌসুম শুরু হবে। এতে ব্যস্ত হয়ে উঠবেন মৌসুমি গাছি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।


সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলার আড়ানী গোচর-রেলস্টেশন সড়কের হামিদকুড়া এলাকায় রাস্তার ধারে খেজুরগাছ পরিচর্যা করতে দেখা যায় এক গাছিকে। শীতের আগমনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গাছের ডালপালা পরিষ্কার করছেন তিনি।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ২৫ হাজার কৃষি পরিবার রয়েছে। উপজেলায় রয়েছে প্রায় দুই হাজার খেজুরের বাগান। এ ছাড়া সড়ক ও রেললাইনের ধার, পতিত জমি, জমির আইল এবং বাড়ির আঙিনায় ছড়িয়ে আছে দেড় লাখের বেশি খেজুরগাছ। এসব গাছকে ঘিরেই প্রতি বছর গড়ে ওঠে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির মৌসুমি কর্মযজ্ঞ।


সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় এক হাজার গাছি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। একজন গাছি প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে পারেন। মৌসুমে প্রায় ১২০ দিন ধরে চলে এ কাজ। একটি গাছ থেকে মৌসুমে যে পরিমাণ রস সংগ্রহ হয়- তাতে ২০ থেকে ২৫ কেজি গুড় পাওয়া যায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। খেজুরগাছের জন্য আলাদা জমির প্রয়োজন হয় না; পতিত জমি, জমির আইল কিংবা বাড়ির আঙিনায় এসব গাছ বেড়ে ওঠে। ফলে বাড়তি খরচ ছাড়াই অনেক কৃষক এ গাছ থেকে আয় করার সুযোগ পান।


বাঘা উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল চকরাজাপুরের গাছি আবুল হোসেন বলেন, চর এলাকায় খেজুরগাছ না থাকায় শীত মৌসুমে তাঁরা আড়ানী, বাঘা, মনিগ্রাম, গড়গড়ি, পাকুড়িয়া ও বাউসা এলাকায় এসে গাছ চুক্তিতে নেন। তিন থেকে চার মাসের জন্য প্রতিটি গাছ ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় চুক্তি করেন তাঁরা। পরে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করে হাটবাজারে বিক্রি করেন।


আবুল হোসেন বলেন, “এবার ১২০টি গাছ চুক্তিতে নিয়েছি। দুইজনে মিলে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করব। আমার সংসারে ছয়জন সদস্য। এ কাজের আয় দিয়ে তিন থেকে চার মাস ভালোভাবে চলতে পারব। অন্য সময়ে অন্যের জমিতে কাজ করি। কাজ না থাকলে শহরে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই।”


খেজুরগাছের বহুমুখী ব্যবহার ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা। রস থেকে গুড় ও পাটালি তৈরি ছাড়াও খেজুরপাতা দিয়ে মাদুর তৈরি করা হয়। গাছের শুকনো অংশ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পরিকল্পিতভাবে খেজুরগাছের সংখ্যা বাড়ানো গেলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি গুড় ও পাটালি রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।


বাঘা উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারী কর্মকর্তা নেয়াজ আহমেদ বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষকদের খেজুরগাছ রোপণে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকেরা নিজ নিজ পতিত জমিতে খেজুরগাছ লাগালে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে গুড় ও পাটালি রপ্তানির মাধ্যমে আয় বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।