বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

মাদ্রাসায় শিক্ষকতা না করেও বেতন নিচ্ছেন রাবির ছাত্রদল নেতা

রাবি প্রতিবেদক ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১২ অপরাহ্ন
মাদ্রাসায় শিক্ষকতা না করেও বেতন নিচ্ছেন রাবির ছাত্রদল নেতা

‎রাজশাহীর বাঘা উপজেলার একটি আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম জীবন। তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজে পাঠদান না করে তাঁর পরিবর্তে মাদ্রাসায় ক্লাস নেন তাঁর মামা আসমত আলী। এভাবে দায়িত্ব পালন না করেও শিক্ষক হিসেবে বেতন নিচ্ছেন নাফিউল।


‎‎বিষয়টি স্বীকার করে জীবন জানান, মাদ্রাসা থেকে পাওয়া বেতনের অর্ধেক তাঁর মামাকে দিতে হয়। অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে নিজের চাকরি চালানোর বিষয়টি পুরোপুরি বৈধ নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।


‎‎নাফিউল ইসলাম জীবন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।


‎‎নিজের পরিবর্তে মামাকে দিয়ে ক্লাস করানোর বিষয়ে জীবন বলেন, “রাকসু নির্বাচনের পর আমি চাকরিতে যোগ দিই। তখনও আমার মাস্টার্স শেষ হয়নি। বিষয়টি মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে জানিয়ে তাঁর কাছে অনুরোধ করি, যেন আমাকে মাস্টার্স শেষ করার সুযোগ দেওয়া হয়। তখন স্যারেরা বলেন ঠিক আছে, তুমি মাস্টার্স করো। তবে ক্লাস তো আর বন্ধ রাখা যায় না, তাই কাউকে দিয়ে ক্লাস করিয়ো।”


‎‎জীবন বলেন, “তখন আমাদের এলাকায় কামিল পাস করা একজন ছিলেন, যিনি সম্পর্কে আমার মামা হন। তাঁকে বলি, আপনি আমার পরিবর্তে ক্লাসগুলো নেন। এভাবেই চলতে থাকে। বেতন যা পাই অর্ধেক তাকে দিতে হয় আর অর্ধেক আমি নেই।”


‎‎খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৫ সালে বাঘা উপজেলার পারসওতা হযরত শাহ সুফি বাঘু দেওয়ান (রহ.) আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন জীবন। তবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত পাঠদানে অংশ না নিয়ে তাঁর মামা আসমত আলীকে দিয়ে ক্লাস করিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষও নিশ্চিত করেছেন।


‎‎মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বজলুল করীম  বলেন,” জীবনের পরিবর্তে অন্য একজন প্রক্সি ক্লাস নেন। জীবন জানিয়েছিল, তার মাস্টার্স শেষ হয়নি। তাই আপাতত অন্য একজনকে দিয়ে ক্লাস করানোর ব্যবস্থা করে সে।কমিটির কেউ এতে বাধা দেন না। আমাদের পক্ষ থেকেও কেউ বাধা দিচ্ছেন না। এভাবেই চালিয়ে নিচ্ছি। আমাদের লোকজনও কিছু বলে না। শুরু থেকেই প্রক্সি ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। মাস্টার্স শেষ করলেই হয়তো সে নিয়মিত ক্লাস নেবে।”


‎‎জীবনের পরিবর্তে ক্লাস নেওয়া ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে অধ্যক্ষ জানান, তাঁর নাম আসমত আলী।


‎‎চাকরিতে যোগ দেওয়ার কারন ব্যাখা করে  নাফিউল ইসলাম জীবন বলেন, “অনার্স শেষ করার পর ২০২৩-২৪ সালের দিকে নিবন্ধন আসে। তখন মনে হলো, এত ত্যাগ, জুলুম-নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও বসে আছি। অন্তত নিজের ডাল-ভাতের ব্যবস্থা তো করতে হবে। এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর নিবন্ধন পরীক্ষা হয়। সেখানে আমি উত্তীর্ণ হই। পরে বাসায় জানাই, রাজনীতি করে তো কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তাই কিছু একটা করা দরকার। তখন পরিবার থেকেই আমাকে চাকরিতে যোগ দিতে বলা হয়।


‎‎অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে নিজের চাকরি চালানোর বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান জীবন। তিনি বলেন,” বিষয়টি আমি আড়াল করে রাখার চেষ্টা করেছি, কারণ এর সঙ্গে আমার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টিও জড়িত। আসলে এটাকে পুরোপুরি বৈধ বলা যায় না, কারণ আমার চাকরিটি অন্য একজন চালিয়ে যাচ্ছেন।”


‎‎এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তকী ফয়সল তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি  বলেন, “এ বিষয়ে আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। যেহেতু এরকম পক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর কোন নিয়ম নাই। আমরা এই বিষয়ে খোঁজ-খবর নিব এবং তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।