বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

শিবগঞ্জে সারের জন্য কৃষকের দুর্ভাগ

সোনার দেশ ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সোনার দেশ ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩০ অপরাহ্ন
শিবগঞ্জে সারের জন্য কৃষকের দুর্ভাগ

সদস্যা আড়াল নয়, সমাধানের উদ্যোগ চাই

সার সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয় নি। সরকার বলছে দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। অথচ দেশের বিভিন্ন স্থানে সার নিয়ে নানাবিধ সমস্যার কথাই সংবাদ মাধ্যমে প্রচার পাচ্ছে। সার ডিলার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সারের কোনো ঘাটতি নেই, পর্যাপ্ত পরিমাণ সার রয়েছে। কৃষি বিভাগও পর্যাপ্ত সারের কথাই বলছেন।  তাহলে কৃষকরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাচ্ছেন না কেন- এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।


সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাতভর সারের দোকানের সামনে অপেক্ষা করেও মিলছে না ডিএপি সার। কেউ রাত দুইটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে, কেউ বা আগের দিন থেকে অপেক্ষা করেও ফিরছেন খালি হাতে। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ বাইরে থেকে প্রায় দ্বিগুণ দামে সার কিনছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে রবি মৌসুমের ফসল চাষের আগে ডিএপি সার নিয়ে এমনই ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, ডিলারদের যোগসাজশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, কোনো সার সংকট বা সিন্ডিকেট নেই; গুজবের কারণে কৃষকেরা আগাম সার মজুদ করতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।


কৃষি বিভাগের দাবি যদি সঠিক হয়- তা হলে কৃষকরা সার না পাওয়ার কথা বলছেন কেন? কোথাও একটা সমস্যা হচ্ছে- এটা পরিষ্কার। তা সমস্যাটা চিহ্নিত করে এর সমাধান করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না কেন? কৃষি বিভাগের দাবি সারের সংকট নেই, কোনো সিন্ডিকেটও নেই- তা হলে সার মিলছে না কেন? দাবি করা হচ্ছে, কৃষকরা গুজবের কারণে আগাম সার কিনে মজুদ করছে এবং এর ফলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। যদি এই অভিযোগ সঠিক হয়- তা হলে এই সমস্যার সমাধানে কেন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না? আর যদি পদক্ষেপ নেয় না হয়- তা হলে ধরেই নেয়া যায় কৃষকের ওপর দায় চাপিয়ে পরিস্থিতি আড়াল করা হচ্ছে। তবে কৃষি বিভাগের অভিযোগ সত্য ধরে নিলেও এটা বলার অপেক্ষা রয়েছে যে, সার সরবরাহের ক্ষেত্রে দুর্বলতা আছে- যা কৃষকদের ভোগান্তির মধ্যে ফেলছে। বাজার ব্যবস্থায় সার সরবরাহ যথাযথ হলে এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা নয়- যাতে করে কৃষককে সারের জন্য রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত নিরাশ হতে হবে। এটা ঠিক, সমস্যাটা আছে। তা আড়াল করার কোনো দরকার নাই। বরং সার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ত্রুটিগুলো নিরসন করাই বাঞ্ছনীয় হবে।