বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

পঞ্চগড় বাজারে ঢেঁকিশাক বিক্রি করছে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজাউল করিম

মো. মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৪০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
মো. মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৪০ অপরাহ্ন
পঞ্চগড় বাজারে ঢেঁকিশাক বিক্রি করছে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজাউল করিম

পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের সংগ্রহ করা ঢেঁকিশাক বাজারে বিক্রি করছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রেজাউল করিম। বয়সে ছোট হলেও পরিবারের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের সংগ্রহ করা শাক বিক্রি করে জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে সে।


সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে পঞ্চগড় বাজারে ঢেঁকিশাক বিক্রি করতে দেখা যায় রেজাউল করিমকে। তার বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১ নং অমরখানা ইউনিয়নের ছোট কামাত এলাকায়। সে শালমারা ভিতরগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে তার শ্রেণি রোল ৫৫।


রেজাউল নিজেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ঢেঁকিশাক সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসে এবং তা বিক্রি করে। একদিকে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা, অন্যদিকে নিজের হাতে শাক সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি—তার এই চিত্র গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা ও পরিবারের প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে।


পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রেজাউলের বাবা মো. আব্দুল মতিন একজন বাক্প্রতিবন্ধী এবং তার মায়ের একটি চোখ নেই। রেজাউলের বাবা দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে জীবনযাপন করতে হয় তাদের। এমন পরিস্থিতিতে রেজাউলের বাজারে ঢেঁকিশাক বিক্রির বিষয়টি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।


শিক্ষাজীবনের এই বয়সে রেজাউলের প্রধান কাজ পড়াশোনা করে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। তবে পারিবারিক বাস্তবতার কারণে তার এমন উদ্যোগ অনেকের মনে সহমর্মিতা জাগাতে পারে। শিশুটির পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের সহানুভূতিশীল সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।


পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা জানান, আমি শিশুটির পরিবারের সাথে যোগাযোগ এবং সার্বিক বিষয়ে জানার চেষ্টা করছি।