চাটমোহরে জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ, বিচার দাবি
পাবনার চাটমোহরে জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোহাম্মদ আলী নামের এক প্রতিবন্ধি ব্যক্তি। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে চাটমোহর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, বিরোধপূর্ণ জমির পরিমাণ ১৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। জমিটি চাটমোহর উপজেলার দক্ষিণ শিবরামপুর মৌজায়, খতিয়ান নম্বর ৩২৩ এবং দাগ নম্বর ৫৪০-এ অবস্থিত। গত ২৩ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় তিনি ফিরোজুর রহমান (বাবলু), আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। জমি দখলের চেষ্টা প্রতিহত করতে গেলে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হন।
মোহাম্মদ আলী বলেন, এ ঘটনায় তিনি গত ২৫ আগস্ট চাটমোহর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে এএসআই আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে থানায় যেতে বলা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১০ অক্টোবর ফিরোজুর রহমান বাবলুর বড় ছেলে তাঁর জমিতে চাষাবাদের জন্য জোরপূর্বক গোবর সার প্রয়োগ করেছেন। এ ঘটনাকে তিনি জমি দখলের চেষ্টার অংশ বলে দাবি করেন।
মোহাম্মদ আলীর ভাষ্য, জমির বৈধ মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও একটি পক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করছে। জমি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে প্রচলিত আইন ও আদালতের মাধ্যমে তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ফিরোজুর রহমান বাবলু জানান, অনেক আগেই জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে, ইতিপূর্বে তাদের বাড়ি করার জায়গা ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আমরা রাস্তার পাশে এই জায়গা ভোগ দখল করছি। মোহাম্মদ আলীদের মারপিটের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানান, তারা আমার ছেলেদের মারপিট করে রক্তাক্ত করেছে।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলিউর রহমান জানান, জমি জায়গার বিষয়টি সম্পুর্ণ আদালতের এখতিয়ার ভুক্ত। এর মাঝে যদি ফৌজদারি কোন অপরাধ থাকে তাহলে সেটা আমি দেখবো। তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।