ঈশ্বরদীতে বিএনপির সবকমিটি বিলুপ্তির পরদিনই পাল্টা কমিটি ঘোষণা!
পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির ৭ ইউনিয়নের সব কমিটি বিলুপ্তি করার পরদিনই দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেছেন বিএনপি থেকে বহিস্কার করা বিএনপির বিদ্রোহী ও বহিস্কার গ্রুপের নেতারা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জনাকীর্ণ আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন কমিটি, ওয়ার্ড কমিটি এবং পৌর বিএনপির ৯টি ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়। সাতটি ইউনিয়নের পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেন উপজেলা বিএনপির বিদ্রোহী পক্ষের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম এবং পৌর বিএনপির নয়টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করেন একই পক্ষের পৌর কমিটির আহ্বায়ক ইসলাম হোসেন জুয়েল।
এ সময় বিএনপি থেকে বহিস্কৃত গ্রুপের উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দীন সেন্টু, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন জনি, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েলসহ বিদ্রোহী পক্ষের কয়েকশো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এসব নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ‘তারা বছরের পর বছর ধরে দলের জন্য মার খেয়েছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। অথচ বর্তমানে দলের দুঃসময়ের তাদের মূল্যায়ন না করে একটি সুবিধাবাদী মহলকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। দলের অস্তিত্ব রক্ষার্থে এবং সাধারণ কর্মীদের আবেগ-অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তারা এই পাল্টা কমিটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন।’
এর আগে গত ২২ আগস্ট রাতে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ স্বাক্ষরিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে আহ্বায়ক ও শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্য সচিব করা হয়। একই সঙ্গে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির কমিটিতে মাহ্বুবুর রহমান পলাশকে আহ্বায়ক ও ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্য সচিব করা হয়। এর প্রায় ১ মাস পর গত ২৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা কমিটিকে আরও ৪৮ সদস্য ও পৌর কমিটিকে ৩৭ সদস্যের পূর্নাঙ্গ আকারে প্রকাশ করে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। সে সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকরা কয়েক দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। এক পর্যায়ে গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় ২৪ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা ও ২২ সদস্য বিশিষ্ট পৌর শাখার পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেন জাকারিয়া পিন্টু নিজেই। পাল্টা ঘোষিত সেসব কমিটির অনুমোদনকারী হিসেবে দল থেকে বহিস্কার করা জাকারিয়া পিন্টু নিজেই ‘অনুমোদনকারী’ হিসেবে স্বাক্ষর করেন।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় পাল্টা ঘোষিত ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিকে ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী’ ও ‘অবৈধ’ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপি নেতারা। তাদের দাবি, ব্যক্তিস্বার্থ পূরণ না হওয়ায় একটি পক্ষ দলের বিপক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে আলাদা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কিছু নেই। তারা বিএনপির নীতি আদর্শ মেনে চলেন না। বহিস্কৃত কোন নেতা দলের কমিটির অনুমোদন করে কিভাবে- এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তারা নিজেরাই তৃণমূল বিএনপির পক্ষে কমিটি ঘোষণা করেছেন। তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা তৈমুর আলম খন্দকার ভালো বলতে পারবেন। ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনের ভাষ্য, বিএনপি একটি বৃহত্তম দল। দুই-একজন নেতাকর্মী পথভ্রষ্ট হলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়বে না।
তার ভাষ্য বিএনপির সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম তারেক রহমানের নির্দেশে পরিচালিত হয়। সুতরাং তিনি জেনে বুঝেই বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করেছেন। তবে দলীয় ছবি, ব্যানার ও বিলবোর্ড ব্যবহার করে যারা বিএনপিকে বিতর্কিত করতে চাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত: চলতি বছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাবনা-৪ আসনের ঈশ্বরদীতে বিএনপিতে দৃশ্যমান দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। নির্বাচনে বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টু বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিস্কার করা হয়। এই পাল্টা কমিটি তারই নির্দেশনায় ঘোষণা করা হয় বলে সোমবারের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জানানো হয়।