যশোরে ২ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় একটি আবাসিক হাফেজিয়া মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে ১১ বছর বয়সী দুই এতিম জমজ বোনকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।
শিশু দুটির মা ও সৎ বাবা এ অভিযোগ করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে একে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন পরিচালক।
এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত মাওলানা আব্দুর রহমান উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মপুকুর গ্রামের রওজাতুল জান্নাত বালিকা হাফেজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক ও বায়তুল আকসা জামে মসজিদের খতিব।
শিশু দুটির অভিযোগ, বিকেলে বিভিন্ন সময়ে তাদের আলাদাভাবে পরিচালকের কক্ষে ডেকে নিয়ে শরীর টিপে দেওয়ার কথা বলে জামা ও পায়জামার ভেতরে হাত দেওয়া হতো।
বিষয়টি কাউকে জানালে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো।
শিশুদের মা জানান, মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে এলে মেয়েরা আর সেখানে ফিরতে চাইত না।
কারণ জানতে চাইলে পরে তারা পরিচালকের বিরুদ্ধে শরীরে স্পর্শ করার অভিযোগ জানায়।
একবার এক শিশুকে জোর করে জাপটে ধরে শুইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সে কৌশলে পালিয়ে আসে বলেও দাবি করেন তিনি।
শিশুদের সৎ বাবা বলেন, গত ১৯ অক্টোবর এক শিশুর পায়ে পেরেক ফুটলে তারা সন্ধ্যায় বাড়িতে আসে। তখনই তাদের কাছ থেকে এসব ঘটনার কথা জানতে পারেন তিনি।
ভয়ে এতদিন শিশুরা মুখ খোলেনি বলে জানান তিনি। মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এখনো থানায় অভিযোগ করেননি জানিয়ে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার পরিচালক আব্দুর রহমান বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এসব অভিযোগ ছড়াচ্ছে।
দুই ছাত্রী দুষ্টু প্রকৃতির হওয়ায় তাদের মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ