ঈশ্বরদীতে পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি করেছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। সোমবার (২৬ অক্টোবর) উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আরামবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নদীর বালু উত্তোলন এলাকায় সচেতন ও সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।
এ সময় তারা অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রভাবে নদীভাঙ্গন রোধে তৈরি বাঁধ নষ্ট, আশেপাশের চাষাবাদী চরাঞ্চল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বাড়িঘর ব্যাপক ভাঙ্গন আতঙ্কের মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন। তাদের দাবি রাতের আঁধারে প্রভাবশালী চক্র প্রতিদিন বালু উত্তোলন করছে। দীর্ঘ সময় ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের এমনকি সম্প্রতি সাঁড়া ইউনিয়নের আরামবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আশেপাশে প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে তারা।
মানববন্ধন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মার দুটি পয়েন্টে উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত ড্রেজারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ট্রলারে রেখে দেওয়া হয়েছে। ঘাটে থাকা অবৈধভাবে তোলা বালুভর্তি ট্রলারের বালু বিক্রি শেষে তা পরিষ্কার করছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের কাছে এ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হলে তারা এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে সটকে পড়েন।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারি স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, রাত ১০ টা পার হলে ড্রেজারের শব্দ শুরু হয়। এভাবে প্রতিদিন বালি উত্তোলনে নদীর গভীরতা সৃষ্টি হয়ে বাঁধ নষ্ট হচ্ছে। এখানে কয়েকটি পয়েন্টে চলা সারারাত ড্রেজারের শব্দে আমরা ঘুমাতে পারিনা। শুধু তাই নয়, আশেপাশের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ব্যাপক হুমকির মুখে পড়ছে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইবের বক্তব্য নিতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও ক্ষুদে বার্তা দিয়েও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।